সর্বশেষ নিবন্ধ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি!

  এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ছিল আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে এক রোমাঞ্চকর লড়াই। ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দর্শকদের উৎকণ্ঠায় রেখেছিল। তবে ম্যাচের রেফারিদের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আবারও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। এটি ছিল আর্জেন্টিনার সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল, অর্থাৎ অতীতের কিছু ব্যর্থতা সত্ত্বেও তারা আবারও ফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে তারা তিনবার এই মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জিতেছে। ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর অনেক দর্শক এই ম্যাচটির সঙ্গে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা ও জার্মানির বিশ্বকাপ ফাইনালের তুলনা করতে শুরু করেন। সত্যিই, দুটি ম্যাচের মধ্যে এতটাই মিল ছিল যে অনেকের কাছেই তা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়েছে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও জার্মানি মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচটিও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গোলশূন্য ও অপেক্ষাকৃত ধীরগতির ছিল। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানি জয়সূচক গোল করে শিরোপা জিতে নেয়। তেমনি, ২০২৬ সালের ফাইনালেও রেফারিদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তবে ফিফা বরাবরের মতোই রেফারিদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জানায় যে তারা সম্পূর্ণ নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও ২০২৬ সালের ফাইনালকে ঘিরে বিতর্ক আরও বেশি ছিল, তবুও অনেক সমর্থকের মতে কিছু সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গেছে, আবার অন্যদের মতে এই ধরনের বিতর্কই ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। এ ধরনের হতাশাজনক ফলাফলের পর যেমনটি প্রায়ই দেখা যায়, ফিফা ম্যাচ এবং বিশেষ করে ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার জবাব দেয়। সংস্থাটি একাধিকবার জানায় যে কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের কোনো ভুল ছিল না। তবুও অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী ভিন্নমত পোষণ করেন, যা প্রমাণ করে যে ফুটবল সবসময়ই নাটকীয়তা ও বিতর্কে পরিপূর্ণ একটি খেলা। প্রকৃতপক্ষে, রেফারিদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, ২০২৬ সালের ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হতাশা ছিল অনেক বেশি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের ভবিষ্যৎ। সর্বপ্রথম, লিওনেল মেসির জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচটি দেখা ছিল অত্যন্ত আবেগঘন, কারণ এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন। তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং মাঠে তাঁর উপস্থিতি সবসময়ই ছিল অসাধারণ। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাঁর দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোভাব ছিল অনুকরণীয়, যা তাঁর সতীর্থ ও সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করেছে। পাশাপাশি, তিনি তাঁর দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে সমস্যা হলো, তাঁর মতো একজন খেলোয়াড়ের উপযুক্ত বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না। যদিও আর্জেন্টিনায় অনেক তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে, তবুও তারা এখনো দল হিসেবে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য প্রদর্শন করতে পারেনি। তাই ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে আগের মতো সাফল্য অর্জন করতে হলে আরও বেশি ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হবে। সবশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ইতিহাসে এই ম্যাচটির মূল্যায়ন কতটা পরিবর্তন করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ফুটবল সবসময়ই বিস্ময়, নাটকীয়তা এবং উত্তেজনায় ভরপুর একটি খেলা, যা দর্শকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুগ্ধ করে রাখে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই ফাইনাল ম্যাচ সম্পর্কে মানুষের মতামত যাই হোক না কেন, এটি সবসময়ই বিশেষ হয়ে থাকবে, কারণ এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  

ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা না জানানোর আহ্বান গোবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপাচার্যের

  গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা না জানানোর আহ্বান করেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত। রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের সময় নবনিযুক্ত উপাচার্যকে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি তা গ্রহণ করতে বিনয়ের সঙ্গে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, “আমি এখন ফুলেল শুভেচ্ছা নিতে আগ্রহী নই। আগামী চার বছর আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পর, আজ যেভাবে আপনারা আমাকে গেট থেকে নিয়ে এসেছেন, ঠিক সেভাবেই ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে এবং সবাইকে আবেগাপ্লুত করে বিদায় জানালে সেটিই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, এজন্য আমি আপনাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। তবে আমি ফুলেল শুভেচ্ছা সেদিনই গ্রহণ করব, যেদিন আমি আমার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে সক্ষম হব।”

আরআইটির আয়োজনে জুলাই বিপ্লব স্মরণে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

  জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দ্রুত বিচার, শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে “দ্বিতীয় জুলাই বিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-২, ২০২৬)।“ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল “জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর লিগ্যাসি: জবাবদিহি, সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ”। দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক ও ছাত্র প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থট (আরআইটি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবে শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম বলেন, শহীদ পরিবারগুলোর প্রধান দাবি ন্যায়বিচার। বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে তিনি দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার, শহীদদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার আলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই বিপ্লবের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে হলে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, জনগণের অধিকার এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি দেশের মানুষের সম্মিলিত উত্তরাধিকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের শ্রম ও সক্ষমতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাই হতাশাবাদী প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে জনগণের শক্তির ওপর আস্থা রেখে জাতীয় পুনর্গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। সম্মেলনে অনলাইনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের সিরিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি হুমা খান এবং অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ। হুমা খান বলেন, জুলাই বিপ্লব দেখিয়েছে যে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে অস্ত্র ও সহিংসতা ছাড়াই পরিবর্তন আনতে পারে; তবে সমতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি এবং কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। জন ড্যানিলোভিচ বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদ, আহত ও তাঁদের পরিবারের জন্য জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিপ্লবের ইতিহাস ও শিক্ষা সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন আর কখনো ফিরে না আসে। বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পক্ষে এবং জুলাই বিপ্লবে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হুমা খানকে ‘ফ্রেন্ডস অব জুলাই রেভল্যুশন’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম এবং ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। তাঁরা আইনের শাসন, বিচার ও জবাবদিহি, শিক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাইদুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, কাতারের হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. উসামা আল-আযমী এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাকিয়ান ফখরুল। মূল প্রবন্ধগুলোতে জুলাই বিপ্লবকে কেবল তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, নাগরিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর প্রক্রিয়া হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আরআইটি’র চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, জুলাই নিয়ে আবেগ ও রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ ও বহুমাত্রিক গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার ফলাফলকে একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জননীতি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ছাত্র প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ডাকসুর সহসভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, জুলাইকে শুধু কয়েক সপ্তাহের একটি আন্দোলন হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য বোঝা যাবে না। জুলাই ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং দীর্ঘদিনের জাতীয় ক্ষত নিরাময়ের একটি নতুন যাত্রার সূচনা। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ও দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক জুলাই কন্ফারেন্সের সহ-আয়োজক মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ বলেন, জুলাই আমাদের প্রজন্মের সেরা অর্জন । পতিত ফ্যাসিস্টগোষ্ঠী মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে জুলাইকে ডিফেইম করার জন্য কিন্তু আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়াই চালাবো জুলাই রক্ষা করার জন্য। এছাড়াও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহিন বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জুলাইয়ের ইতিহাস ও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। দিনব্যাপী সম্মেলনের ১৫টি প্যানেলে নির্বাচিত ৮০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাপত্রগুলোতে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক ও সামাজিক পটভূমি, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, শহীদ ও আহতদের অভিজ্ঞতা, নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ, গণমাধ্যম, আইন ও বিচার, সংবিধান ও প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয়। প্যানেল আলোচনায় জুলাই বিপ্লবের একটি সমন্বিত ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্কাইভ নির্মাণ, শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি, আন্দোলনকারী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংরক্ষণ এবং বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন, নির্বাচনব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুরক্ষা কাঠামোর কার্যকর সংস্কারের প্রস্তাব উঠে আসে। আরআইটির নির্বাহী পরিচালক ড. একরাম উদ্দীনের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। তিনি দেশি-বিদেশি অতিথি, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আয়োজক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সম্মেলন থেকে জুলাই বিপ্লবকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম হিসেবে সংরক্ষণ, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ নির্মাণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

গোবিপ্রবির নবীন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা

  নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু, নতুন অভিজ্ঞতা এবং অসংখ্য স্বপ্ন নিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা শুরু করেছেন তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। দীর্ঘ ভর্তি-যুদ্ধ শেষে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে নানা পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা। তাদের এই স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন ‘দ্যা ক্যাম্পাস মিরর’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তাছিন জায়েফ। ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, সিনিয়রদের সহযোগিতা এবং নতুন বন্ধুদের সান্নিধ্য ইতোমধ্যেই নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যদিও নতুন শহর, আবাসন এবং পারিবারিক পরিবেশ থেকে দূরে থাকার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা। পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানহা আমিন রাহা বলেন, “গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। এই অর্জনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাবাকে গর্বিত করতে পেরেছি, আর সেটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাস-সেবা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই আমাকে একটি সুন্দর পরিচয় দিয়েছে। তাই এর সুনাম রক্ষায় নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চাই। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সিনিয়রদের কাছ থেকে একটি চিরকুট পেয়েছিলাম, যেখানে লেখা ছিল— ‘Today you are a fresher, tomorrow you’ll inspire others.’ কথাটি আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে। চার বছর পর আমি এমন একজন গ্র্যাজুয়েট হতে চাই, যার কাজ ও অর্জন ভবিষ্যতের অনুজদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।” রসায়ন বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নীলিমা হক হীরা বলেন, “গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিন মনে হয়েছে, জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো। নতুন পরিবেশে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও শিক্ষক, সহপাঠী ও সিনিয়রদের আন্তরিক সহযোগিতায় খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছি। আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো ভালোভাবে পড়াশোনা করে নিজেকে একজন দক্ষ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। চার বছর পর একজন আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল গ্র্যাজুয়েট হিসেবে দেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখার স্বপ্ন দেখি।” মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদিন ওহি বলেন, “গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। ক্যাম্পাসের সুন্দর পরিবেশ এবং সিনিয়র-জুনিয়রদের আন্তরিক বন্ধন আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। নতুন পরিবেশে বড় কোনো সমস্যার মুখোমুখি না হলেও শুরুতে আবাসনের জন্য কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো নিজেকে একজন দক্ষ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সফল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা। চার বছর পর নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে দেখতে চাই। এই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই। নিজের বিভাগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “মার্কেটিং বিভাগটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। অভিজ্ঞ ও আন্তরিক শিক্ষকদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। আশা করি, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যতে আমাকে একজন সফল পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।” আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বসুন্ধরা সরকার মৌ বলেন, “গোবিপ্রবিতে ভর্তি হওয়ার পর আমি অনেক স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করেছি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়েছে। ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সিনিয়রদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি শুধু ডিগ্রি অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে গবেষণা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, নেতৃত্ব, ভাষাগত ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করি।”

১১তম ফিলাটেলিক মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

  মুসাব্বির, ঢাকা: ঢাকা ফিলাটেলিক ক্লাব ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে সেচ ভবন অডিটোরিয়ামে ১১তম ফিলাটেলিক মেলা ২০২৬-এর আয়োজন করে। এই মেলায় ডাকটিকিট, পুরোনো ও দুর্লভ কাগজের নোট ও মুদ্রা, কী-রিং, ভিনটেজ ঘড়ি, বিভিন্ন ধরনের পুরোনো সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী (Antiques) এবং স্মারক (Souvenirs) প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা ছিল। ফলে ডাকটিকিট ও মুদ্রা সংগ্রাহকসহ ইতিহাস ও ঐতিহ্যপ্রেমীদের জন্য এটি ছিল একটি আকর্ষণীয় আয়োজন। মেলাটি সকাল ১০:০০টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭:০০টা পর্যন্ত চলেছে। সারাদিনব্যাপী এই আয়োজনে দর্শনার্থীরা সংগ্রহযোগ্য বিভিন্ন দুর্লভ সামগ্রী দেখা, কেনাবেচা এবং সংগ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন।  

দুই দশকেও নিজস্ব অডিটোরিয়াম পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

  মনির আহমদ শিহাব,কুবি প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ হলেও এখনো নিজস্ব কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। ফলে সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, বিতর্ক, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কর্মশালা, সমাবর্তন আয়োজনসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করতে গিয়ে প্রতিবছরই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনকে। ২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি বিভাগে প্রায় ৬ হাজার ৪৪৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। পাশাপাশি নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ও আঞ্চলিক মিলিয়ে প্রায় শতাধিক ছাত্রসংগঠন ও ক্লাব নিয়মিত একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু একটি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অভাবে বড় পরিসরের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এসব সংগঠনকে প্রায়ই ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া করা ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা ধরনের লজিস্টিক জটিলতা সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অনুপস্থিতি। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনেও পিছিয়ে পড়ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় । শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য হয়ে খোলা মাঠ, অস্থায়ী মঞ্চ কিংবা সীমিত ধারণক্ষমতার কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হচ্ছে। বড় পরিসরের কোনো সেমিনার, কর্মশালা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আয়োজন করতে গেলেই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। অনেক সময় ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া করা অডিটোরিয়ামের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় ব্যয় বেড়ে যায়, সমন্বয় জটিল হয়ে পড়ে এবং অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে যায়। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দশকের পথচলায় একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম এখন সময়ের দাবি। জানা যায়, সমসাময়িক অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এ সুবিধা ভোগ করছে। অথচ দুই দশক পেরিয়েও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়নি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশন (এমইউএন)-এর সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অডিটোরিয়ামের অভাবে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সেমিনার, ন্যাশনাল এমইউএন (এমইউএন) কনফারেন্স, সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে প্রায়ই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। একটি স্থায়ী অডিটোরিয়াম থাকলে এসব কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও পেশাদারভাবে আয়োজন করা সম্ভব হতো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম ও নেতৃত্ব বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।” কুবি ইএলডিসির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো অডিটোরিয়াম নেই, যা একজন ক্লাব সভাপতি ও শিক্ষার্থী হিসেবে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ( ইএলডিসি) নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ, লিডারশিপ ট্রেনিং ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজন করে। কিন্তু বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলেই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। কনফারেন্স রুমের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে বাধ্য হয়ে বাইরের ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ব্যয়, লজিস্টিক ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।” তিনি আরও বলেন, “অডিটোরিয়াম না থাকায় অনেক সময় বড় পরিসরের ও মানসম্মত অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয় না। একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম থাকলে বড় আয়োজন, কর্পোরেট সংযোগ এবং স্পন্সরশিপ পাওয়া সহজ হতো। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতা বাড়ার পাশাপাশি ক্লাবগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হতো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্র্যান্ডিংও উন্নত হতো।” কুবি ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমান আস-সাদী বলেন, “আমাদের ক্লাবের বড় কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলেই প্রায়ই ভেন্যু-সংকটে পড়তে হয়। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতা বা বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে অডিটোরিয়াম না থাকায় বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়। এতে যেমন আয়োজন জটিল হয়ে পড়ে, তেমনি আর্থিক ব্যয়ও বেড়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম থাকলে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজন ও স্পন্সরশিপ সংগ্রহ অনেক সহজ হতো। এতে ক্লাবগুলোর আর্থিক চাপ কমার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সহশিক্ষা কার্যক্রমও আরও গতিশীল হয়ে উঠত।” এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো আমরা বুঝতে পারছি। নতুন ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমান ক্যাম্পাসে নতুন করে অডিটোরিয়াম নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাছাড়া নতুন ক্যাম্পাসে অডিটোরিয়াম নির্মাণ হওয়ায় এ ক্যাম্পাসের জন্য আলাদা সরকারি বাজেট পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।”

ফার্মের মুরগীরাই জুলাই বিপ্লবের সাহসী সৈনিক: রেজাউল করিম

  টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলো। শিক্ষার্থী-অভিভাবক থেকে শুরু করে নেটিজেনদেরও তোপের মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাকও দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’ বিষয়টি সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেন, শিক্ষামন্ত্রীর মনে রাখা উচিত, ফার্মের মুরগীরাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিপ্লবী সাহসী সৈনিক। তিনি অপর আরেকটি পোস্টে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিটি কলেজের একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ওই ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে এ কথোপকথন হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘মিটিংয়ে একজন বলছিলেন, একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে। বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসে। তখন আমি মিটিংয়েই বলছিলাম যে, একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।’

বৃষ্টি ভেজা রাত, থেমে নেই উন্মাদনা: কুবিতে বিশ্বকাপের আমেজ

  মনির আহমদ শিহাব, কুবি প্রতিনিধি: মধ্যরাত। শীতল আবহে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। মুক্তমঞ্চ জুড়ে ছড়িয়ে আছে ছাতার রঙিন সারি। কেউ বৃষ্টিতে ভিজেই বসে আছেন, কেউ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে। অথচ কারও চোখে বৃষ্টির অস্বস্তি নেই। সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ বিশাল এলইডি স্ক্রিনে। বল পায়ে এগোচ্ছে প্রিয় দলের ফুটবলার, আর তার সঙ্গে ওঠানামা করছে শত শত শিক্ষার্থীর হৃদস্পন্দন। গোলের সুযোগ তৈরি হতেই নিস্তব্ধতা, আর বল জালে জড়াতেই মুহূর্তেই ফেটে পড়ছে বজ্রধ্বনির মতো উল্লাস। মনে হচ্ছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ নয়, যেন বিশ্বকাপের কোনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই বসে আছেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। মুক্তমঞ্চ এখন যেন এক অস্থায়ী স্টেডিয়াম। গ্যালারির মতো সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা শিক্ষার্থী, চারপাশে দাঁড়িয়ে শত শত দর্শক। খেলার প্রতিটি পাস, প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি সেভ আর প্রতিটি গোলের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে দর্শকদের অভিব্যক্তি। মাঠে উপস্থিত না থেকেও আবেগে তারা যেন ম্যাচেরই অংশ হয়ে উঠছেন। মুক্তমঞ্চের সেদিন আর্জেন্টিনা বনার মিশরের মধ্যাকার ম্যাচের চিত্র ছিলো এটি। বিশ্বের এক প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে গড়াচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। কিন্তু সেই উত্তেজনার ঢেউ থেমে নেই হাজারো মাইল দূরের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও। ক্যাম্পাসজুড়ে এখন ফুটবলের রঙ, আবেগ আর উন্মাদনারই প্রতিচ্ছবি। বিশ্বকাপ এলেই যেন বদলে যায় ক্যাম্পাসের চিত্র। প্রিয় দলকে ঘিরে আনন্দ, প্রতিপক্ষকে নিয়ে খুনসুটি, রাত জেগে খেলা দেখা, গোল হলেই একসঙ্গে চিৎকার করে ওঠা, সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে মুক্তমঞ্চে স্থাপন করা বিশাল এলইডি স্ক্রিন। প্রিয় দলের জয় নিশ্চিত হতেই মুহূর্তে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উল্লাসের জবাবে ব্রাজিল সমর্থকদের খুনসুটি, আবার কখনো উল্টো চিত্র। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সবকিছুই সীমাবদ্ধ বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি-ঠাট্টা আর ফুটবলপ্রেমে। খেলা শেষ হলেও আলোচনা থামে না। সেই রেশ ছড়িয়ে পড়ে আবাসিক হল, চায়ের দোকান, করিডর কিংবা বন্ধুদের আড্ডায়। ক্যাম্পাসে একত্রে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন শিক্ষার্থীরা। দর্শক সারিতে থাকা লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আফতাব উল হক বলেন, “এই আয়োজন আমার কাছে সত্যিই দারুণ লেগেছে। মুক্তমঞ্চে এত বড় স্ক্রিনে সবাই মিলে বিশ্বকাপের খেলা দেখার আনন্দ একেবারেই অন্য রকম। খেলার সময় যখন কোনো দল গোল করে, তখন পুরো মুক্তমঞ্চ করতালি আর উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে। আবার নিজের প্রিয় দল জয়ী হলে সবাই মিলে সেই আনন্দ উদযাপন করি। বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে মজার মজার তর্ক-বিতর্ক ও খুনসুটিও চলে, যা পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।” এলইডি স্কিনে খেলা দেখানোর আয়োজন নিয়ে কুবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ জানান, “পৃথিবীর প্রতিটি দেশে বিশ্বকাপের যে আমেজ চলছে, সেই আমেজকে ধরে রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সকলের সুবিধার্থে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আয়োজনে আমরা এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন করেছি। বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ আমরা সুশৃঙ্খলভাবে দেখানোর আয়োজন করবো। আমরা আশা করছি সকল শিক্ষার্থী এটি উপভোগ করবে এবং আগামীতেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের যেকোনো সহযোগিতায় পাশে থাকবে।” বৃষ্টি, গভীর রাত কিংবা ক্লাসের ব্যস্ততা, কোনো কিছুই যেন থামাতে পারছে না ফুটবলপ্রেমীদের এই মিলনমেলা। শেষ বাঁশি বাজলেও উল্লাস, তর্ক, বিশ্লেষণ আর স্মৃতির রেশ থেকে যায় দীর্ঘক্ষণ। তাই কুবির শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্বকাপ শুধু ৯০ মিনিটের একটি ম্যাচ নয়, বরং বন্ধুত্ব, আবেগ আর একসঙ্গে উদযাপনের এক অনন্য উৎসব।

আইইউটির টেকাথন ন্যাশনালস অ্যান্ড রোভার সামিট ২০২৬-এ প্রথম রানারআপ ডুয়েটের ‘সলিডএক্স’

ডুয়েট প্রতিনিধি, গাজীপুর: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) রোবটিক্স সোসাইটি আয়োজিত টেকাথন ন্যাশনালস অ্যান্ড রোভার সামিট ২০২৬-এর রোবোক্যাড বিভাগে প্রথম রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) সলিডএক্স দল। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় প্রকৌশল নকশা, ত্রিমাত্রিক মডেলিং এবং কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখে দলটি। কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে প্রথম রানারআপ হওয়ার মাধ্যমে ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা আবারও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে।

কোমরসমান পানিতে নেমে বন্যার্তদের পাশে বিরোধীদলীয় নেতা

  ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা নিরাপদ দূরত্বে না থেকে সরাসরি কোমরসমান নোংরা পানি মাড়িয়ে একের পর এক জলমগ্ন বাড়িতে ছুটে যান তিনি, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ডা. শফিকুর রহমান এলাকায় পৌঁছামাত্রই চারদিকে ‘দাদু আসছেন… দাদু আসছেন…’ বলে শোরগোল পড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় এই সম্বোধনটি আজ মাঠপর্যায়ে বাস্তব রূপ নেয়। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি প্রথমে লাবুর দোকানের পাশে অবস্থিত একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এরপর তিনি নিজেই নেমে পড়েন বুক ও কোমরসমান পানিতে। অবরুদ্ধ বাড়িঘরগুলোর দরজায় কড়া নেড়ে ভেতরের শিশু ও বৃদ্ধদের খোঁজ নেন, তাঁদের হাতে সহায়তা তুলে দেন এবং পরম মমতায় কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান। নেতার এমন মানবিক রূপ দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বন্যাকবলিত মানুষগুলো। গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসে দূর থেকে ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের ভেতর পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন। লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম ও কিরণ বালা জলদাস জানান, ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় তাঁরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে দেশের এত বড় একজন নেতা তাঁদের কথা শুনতে সরাসরি পানির মধ্যে নেমে এসেছেন, এটাই তাঁদের বড় সান্ত্বনা। স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে না গিয়ে তিনি যেভাবে মানুষের ঘরে ঘরে গেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে আছে। তিন দিন ধরে ঘরছাড়া দুর্গত মানুষগুলো স্কুল, দোকান বা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি, বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনুভব করতেই আজ মাঠে নেমেছি। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জোরালো আলোচনা করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, মানুষের আসল দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা। এ সময় সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহতদের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। বক্তব্য শেষ করে তিনি আবারও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান।