সর্বশেষ নিবন্ধ

কুবিতে হল প্রাধ্যক্ষের নামফলক খুলে ফেললেন ছাত্রদল কর্মী

  কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য পরিবর্তন হওয়ার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খানের নামফলক খুলে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী বিএম সুমন। এ ঘটনায় হলে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। অভিযুক্ত বিএম সুমন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছাত্রত্ব শেষ হলেও তিনি এখনও হলে অবস্থান করছেন বলে জানান হল কতৃপক্ষ। তবে জানা গেছে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে ২য় মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৬ মিনিটে তিনি বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ কক্ষের সামনে গিয়ে নামফলকটি খুলে ফেলেন। এসময় তার সাথে দেখা যায় লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে৷ শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। অভিযুক্ত বি এম সুমনের সঙ্গে থাকা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘রাতে সুমন ভাই আমাকে একটা জিনিস দেখাবে বলে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি নেমপ্লেট খুলবেন, বিষয়টি আগে জানতাম না। জানলে সেখানে যেতাম না। নেমপ্লেট খুলে ফেলার পর আমি তাকে বলেছি, এটা ঠিক হয়নি। এর আগে বা পরে কী হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” এ ঘটনায় বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময়ে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম নতুন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ তথা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। কিন্তু গতকাল ভিসি পরিবর্তনের ঘোষণার পর বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টের নেমপ্লেট খুলে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও শৃঙ্খলাবিরোধী। পরে জানতে পারি, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বিএম সুমন এ কাজটি করেছেন। এটি একজন শিক্ষককে অবমাননার শামিল। প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’ এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সকালে দেখি আমার হলের শিক্ষার্থী বিএম সুমন এই কাজটি করেছে। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তবে তার মাস্টার্স সম্পন্ন হওয়ায় তাকে কয়েকবার হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হলে তোলার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় যাদের মাস্টার্স শেষ হয়েছে, তাদের হল ছাড়তে বলা হয়েছে।”

উপাচার্যের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে টানা ২য় দিনে ডুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

  ডুয়েট প্রতিনিধি, গাজীপুরঃ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরে সদ্য নিযুক্ত ভিসিকে প্রত্যাখ্যান করে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জুমআর নামাজের পর ডুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ডুয়েটের মেইন গেইট সংলগ্ন ঢাকা শিমুলতলী আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেয়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দুইপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মিছিল চলাকালে “দাবি মোদের একটাই, ডুয়েট থেকে ভিসি চাই”, “ডুয়েটের ভিসি ডুয়েট থেকেই চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে রাখেন শিক্ষার্থীরক। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীরা জানান, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা বেশি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বহিরাগত কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এজন্য তারা ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানান। উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও এক জরুরি সভায় অভ্যন্তরীণ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করে।

নতুন ভিসি নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে ডুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল

  ডুয়েট প্রতিনিধি, গাজীপুর। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), এর নতুন উপাচার্য হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল নিয়োগ পাওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের উপাচার্য ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকেই নিয়োগ দেওয়া উচিত।তাদের মতে, ডুয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা তুলনামূলক বেশি। ফলে ডুয়েটের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ অধিক কার্যকর হবে। এ ঘটনার পর সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ডুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা “ডুয়েটের ভিসি ডুয়েট থেকেই চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। উল্লেখ্য, এর আগে ডুয়েট শিক্ষক সমিতিও এক জরুরি সভায় অভ্যন্তরীণ সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছিল। দাবি না মানলে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা এবং আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর আবারো বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।

কুবির নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রদলের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎

‎কুবি প্রতিনিধি, ‎ ‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ‎ ‎বুধবার (১৪ মে) বিকালে উপাচার্যের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ছাত্রদলের নেতারা নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। ‎ ‎এসময় উপস্থিত ছিলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও সাইদুল ইসলাম শাওন সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। ‎ ‎কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা নিজ ক্যাম্পাস থেকে একজন ভিসি পাওয়া, সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তার জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত উপাচার্যকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের প্রত্যাশা উনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, স্টেকহোলডারদের নিয়ে একটি উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে এবং কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো সুযোগ সুবিধা কিংবা রিসার্চ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণে ভূমিকা রাখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত উপাচার্য সকল দল, মত, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষকদেরকে নিয়ে সুন্দর একটি ভূমিকা পালন করবে এই প্রত্যাশা করি।”

ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হলেন শাবিপ্রবির অধ্যাপক 

    ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বর্তমানে সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত যেটি আগে ঘটবে মতিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুবিতে নতুন উপাচার্য: নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেল কুবি

  কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নবম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. এম এম শরীফুল করীমকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও জানানো হয়, উপাচার্য হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধাও ভোগ করবেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ডিনের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান কুবি শিক্ষকের 

‎কুবি প্রতিনিধি: ‎ ‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কলা ও মানবিক অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ডিন নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ‎ ‎বুধবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ‎ ‎জানা যায়, গত ১২ মে তিনি রেজিস্ট্রার বরাবার এক চিঠি পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় ডিন নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্বান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-২০০৬ মোতাবেক কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন নিয়োগ বিধি বর্হিভূত মনে করায় উক্ত পদে দায়িত্ব গ্রহণে বিব্রত ও অপারগত প্রকাশ করছেন তিনি। ‎ ‎অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, ‘ডিন নিয়োগে যে বিধি রয়েছে, সে বিধি মোতাবেক ডিন নিয়োগ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চাইলে একক বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে সেটি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রেক্ষাপটে হতে হয়। কিন্তু কোন প্রেক্ষাপটে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়নি। যদি একক ক্ষমতাবলে ডিন নিয়োগ দেওয়া হতো, তাহলে আইনের কোন ধারায় এবং কোন প্রেক্ষাপটে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটি উল্লেখ থাকা উচিত ছিল।’ ‎ ‎তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং গত ১৩ মার্চ ডিনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় একটি বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। তখন তো একক ক্ষমতাবলে ডিন পরিবর্তন করা হয়নি। এখন কোন উদ্দেশ্যে এটি করা হলো, তা বোধগম্য নয়। সিন্ডিকেটে যেখানে আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে ডিন নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানে কোনো আইন বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছামতো, কোনো প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কীভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়া হলো। এ কারণে আমি বিষয়টি নিয়ে বিব্রত এবং দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছি।’ ‎ ‎ ‎রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি চিঠি পেয়েছি। ওনি যেহেতু দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে তাহলে আমাদের আরেকজনকে দায়িত্ব দিতে হবে, কিছু করার নেই।’ ‎ ‎তিনি আরও বলেন, ‘ওনি যে আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছে এখানে সেই আইন অনুযায়ী তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় নাই। ডিন নিয়োগ নিয়ে করা মামলার সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত ভিসি স্যার তার একক ক্ষমতাবলে তাদেরকে অন্তর্বর্তিকালীন সাময়িক সময়ের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন৷ আইন বিশেষজ্ঞের মতামত আসলে সেই অনুযায়ী নতুন করে ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে৷’ ‎ ‎উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, ‘এটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে। আপাতত কিছু দিনের জন্য তাদের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি আইন মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে।’ ‎ ‎ ‎প্রসঙ্গত, গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমকে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়। ‎

কুবিতে আইকিউএসির নবীন বরণ: ৮ম দিনে গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগের অংশগ্রহণ

‎ ‎কুবি প্রতিনিধি : ‎ ‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী নবীন বরণ, একাডেমিক গাইডলাইন, কাউন্সিলিং ও মোটিভেশনভিত্তিক ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির ৮ম দিনে গণিত বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগ অংশগ্রহণ করে। ‎ ‎বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে ৮ম দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। ‎ ‎আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আদিব সালমান চৌধুরী, এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম। এছাড়াও রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু তাহের এবং পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী। ‎অনুষ্ঠানটি মোট পাঁচটি সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। সেগুলো ছিল -কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও নিয়মকানুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ওবিই সম্মত একাডেমিক প্রোগ্রামের কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং এআই যুগের উপযোগী কর্মসংস্থানযোগ্য ও উদ্ভাবনী গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা। ‎ ‎প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো.আবদুল হাকিম বলেন, “আপনারা একটি বড় ভর্তি যুদ্ধ পেরিয়ে আরেকটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে নেমেছেন। এই যুদ্ধেও আপনার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট অর্জনই আপনার জীবনের মূল লক্ষ্য বানাবেন না ।সব ক্ষেত্রে একজন অলরাউন্ডারের ভুমিকায় নিজেকে রাখার চেষ্টা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সবে মাত্র শুরু করেছেন। তাই সব সময় গভীর ভাবে লক্ষ্য রাখবেন বন্ধু নির্বাচনে। কারন একজন ভালো বন্ধুই আপনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে প্রতিফলিত করবে। সব সময় মনে রাখবেন এই চার বছরের যুদ্ধ ক্ষেত্রই বাকি জীবন নির্ধাবন করবে আপনার পরবর্তী জীবনযাত্রা কেমন হবে। তাই এই চার বছর কীভাবে আপনার জীবনকে কাজে লাগাবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।” ‎ ‎উপচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, “জাতি তৈরির সূচনা হয় অরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে।তাই আপনাকেও আমরা নানা কল্যাণমুখী দিকনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে গঠন করার চেষ্টা করছি। আপনি মেধাবী মানে আপনাকে সকল ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রাখতে হবে। শুধু মাত্র প্রশ্ন ও উত্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারনে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় বহুগুনে পিছিয়ে। তাই গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আমাদের প্রযুক্তি নির্ভর চিন্তার মাধ্যমে বিশ্বব্যপী নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গঠন করে দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য নিজেকে তৈরী করতে হবে।” ‎ ‎ ‎অনুষ্ঠানের সভাপতি আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, ‘আইকিউএসির প্রধান কাজ হলো মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের প্রক্রিয়াকে সহজতর করা। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কয়েকটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। আমরা চাই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলা এবং ইংরেজি অন্তত দুটি ভাষায় দক্ষ হোক। সেজন্য আমরা স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামের ও সমন্বয় করবো। আমরা চাই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা ডিজিটালি উন্নত হোক, আইটি বেজড কম্পিটেন্সি ডেভেলপ করার পাশাপাশি লিডারশিপ, ম্যানেজমেন্ট এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা তৈরি করুক।’ ‎ ‎উল্লেখ্য, গত রবিবার (৩ মে) থেকে ১০ দিনব্যাপী এ একাডেমিক নবীন বরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। ‎

জাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা: শনাক্ত হয়নি আসামি

  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হলে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা গেলেও এখনও তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা কার্যালয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, রাত ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থী হলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার পিছু নেন। একপর্যায়ে পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে ওই ব্যক্তি শিক্ষার্থীর কাছাকাছি এসে কথা বলতে শুরু করেন। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ক্যাম্পাসের কি না। উত্তরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি পাশের বিশমাইল এলাকায় থাকেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কাপড় দিয়ে শিক্ষার্থীর গলা পেঁচিয়ে তাকে অন্ধকার স্থানে টেনে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ভুক্তভোগী কোনোভাবে নিজেকে ছাড়িয়ে সড়কে উঠে আসেন। এ সময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা সাজেস্ট করেছি।’ চিকিৎসা কেন্দ্রের নার্স আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’ এরপর ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হয়। রাত দুইটার দিকে নিরাপত্তা শাখা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং জাকসুর কয়েকজন নেতা মিলে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন। কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলেন অন্য শিক্ষার্থীরাও। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, ‘খুবই ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে বের করেছি, তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। আমরা কোনো না কোনো ফুটেজ দেখে তার পরিষ্কার ছবি পাব বলে আশা করছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রয়েছে। অতিদ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ এ ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার শিকার হতে যাচ্ছিলো জাহাঙ্গীরনগর। যতটুকু ঘটেছে ততটুকুও এই ক্যাম্পাসের জন্য চরম উদ্বেগের। রাত সোয়া এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী এক্সটেনশনের পরিত্যক্ত প্রায় ভবন ও পুরাতন ফজিলতুন্নেসা হল সংলগ্ন রাস্তায় ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজের ভয়াবহ দৃশ্যে উক্ত শিক্ষার্থীকে গলায় নেট পেঁচিয়ে পাশের অন্ধকার স্থানে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তিনি বলেন, প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিট পর শিক্ষার্থীর বলিষ্ঠ চেষ্টায় নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন এবং তৎক্ষনাৎ রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বেঁচে ফিরেন। নিপীড়ক ব্যক্তিকে ইমিডিয়েটলি জায়গা ঘেরাও করে খোঁজা হলেও ততক্ষণে সে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে নিপীড়কের জুতা ও ব্যবহৃত নেট উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের ছবি পাওয়া গিয়েছে। আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিদ্যমান সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগামিকালের মধ্যে আসামিকে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টার দাবি জানানো হয়েছে আমাদের পক্ষ থেকে। জাকসুর জিএস মাজহার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংস্কার, বহিরাগতের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা শাখায় জনবল সংকট নিরসণের কথা বলে এসেছি। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার এই ব্যাপারটি নির্লজ্জভাবে অগুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে। ৫০% জনবল ঘাটতির পরেও সংকট দূর করেনি, বিভিন্ন হেনস্থার ঘটনার সুরাহা করেনি। যার ফল আজকের এই কলঙ্কজনক ঘটনা। ভিক্টিম যদি শক্তিশালীভাবে নিপীড়ককে মোকাবিলা না করতেন এবং তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে অন্যরা উপস্থিত না হলে ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটে যেতো। শেষে তিনি উল্লেখ করেন, অবিলম্বে এই ধর্ষণ চেষ্টাকারী ব্যক্তিকে আটক করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে, এমন দৃষ্টান্তের উপযুক্ত শাস্তির বিকল্প নেই। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে ঢেলে না সাজায় তবে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি করা হবে।  

শিক্ষক সমিতির সভায় বর্তমান ভিসির পূর্ণ মেয়াদ এবং ডুয়েট শিক্ষকদের মধ্যে থেকে ভিসি নিয়োগের দাবি

  ডুয়েট প্রতিনিধি: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর শিক্ষক সমিতির ৭ম সাধারণ (জরুরি) সভায় বর্তমান উপাচার্যের পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। ০৫ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এ সভায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ খসরু মিয়ার সভাপতিত্বে সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান ভিসির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে পরিবর্তন আনা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক, একাডেমিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষকবৃন্দ মত প্রকাশ করেন যে, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এর অভ্যন্তরীণ সিনিয়র ও অভিজ্ঞ শিক্ষকগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অধিকতর অভিজ্ঞ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে অভ্যন্তরীণ যোগ্য শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক হবে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, বর্তমান ভিসির পূর্ণ মেয়াদ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হবে এবং ভবিষ্যতে ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি সরকার ও উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনের নিকট জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। সভা শেষে শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ধারাবাহিকতা এবং অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।