সর্বশেষ নিবন্ধ

দাখিল/ এসএসসি এবং সমমানের ফলাফল ২০ জুলাই

  ডেস্ক রিপোর্ট: পূর্বের ধারাবাহিকতায় পরীক্ষা শেষের ৬০ দিনের মধ্যেই ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০ জুলাই আউট করবো। এই নির্দেশনা দিয়েছি। রীতি অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা এটিই প্রথম ছিল। এই পরীক্ষা চলতি বছরের ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়, তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলে গত ২০ মে পর্যন্ত। এখন চলছে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এই ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত। মূলত তত্ত্বীয় পরীক্ষার পর থেকে ফল প্রকাশের কাউন্টডাউন শুরু হয়। সে হিসেবে আগামী ২০ জুলাই ৬০ দিনের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।  

প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীর প্রেমিকের বউয়ের সাথে বিয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট: পরকীয়ায় জড়িয়ে প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছেন স্ত্রী। তবে প্রতিশোধ নিতে থেমে থাকেননি যুবকও। তিনি বিয়ে করেছেন ওই প্রেমিকের স্ত্রীকে। এ ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পেকুয়া গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাজাহান সিরাজ। পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, পেকুয়া গ্রামের সাইজুদ্দীন মিয়ার ছেলে হাসান ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে জহুরা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। হাসান মিয়ার বাড়ির পাশে একটি এনজিওতে বাবুর্চির কাজ করতেন সাতক্ষীরার রাজু মিয়া। পাশাপাশি বাড়ি থাকার কারণে রাজুর স্ত্রী জহুরার সঙ্গে গড়ে ওঠে সখ্য। একপর্যায়ে দুজন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। ৭ মে বৃহস্পতিবার হাসানের স্ত্রী জহুরাকে নিয়ে চলে যান রাজু। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসান প্রতিশোধের পথ বেছে নেন। হাসান মিয়া বলেন, ‘ও আমার বউ নিয়ে গেছে, তাই আমি ওর বউ নিয়ে এসেছি। পরকীয়া প্রেমের শাস্তি দিতেই আমি এমন কাজ করেছি।’ চলতি মাসের ৪ জুন সাতক্ষীরা থেকে রাজুর স্ত্রীকে তার তিন বছরের সন্তানসহ মির্জাপুরে আনা হয় এবং পরে তাকে বিয়ে করেন।  

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন ডাক্তারদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

  ০৭ জুন, ২০২৬ রবিবার এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশ (স্মারক নং: ৫১.০০.০০০০.১৪০.১৬.১০.২৫.৩৩৬) প্রেক্ষিতে আজকে (০৭/০৬/২০২৬ তারিখে) চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তার অংশ হিসেবে যোগ দিয়েছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এই সার্বিক দায়িত্বে ছিলো ইন্টার্ন চিকিৎসক এসোসিয়েশন, ইউএমসিএইচ। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যবিরতির ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদ। দেশের সকল মেডিকেল কলেজে সকাল ১১টার পর ক্লাস এবং সকল পরীক্ষা অংশগ্রহণ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদ।

৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে বিগত তিন মাসে

মোঃ রুবেল হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। যা বর্তমানে বিতরণ কৃত ঋণের এক-তৃতীয়াংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মার্চ মাস শেষে দেশের তফসিলি কৃত ৬১ টি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা,যা বিগত তিন মাসে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান দেখা যায় যে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিলো প্রায় ৫ লাখ ২৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋনের হার সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। বর্তমানে শুধুমাত্র রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। শুধুমাত্র রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সরকারি ৬ টি ব্যাংকের মধ্যে ৪ টি ব্যাংকে প্রতিনিয়ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। যার সর্বশেষ পরিমাণ দাঁড়িয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণে পিছিয়ে নেই বেসরকারি ব্যাংকগুলো, মার্চের শেষে ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ প্রায় ২৬ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা বেড়ে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা এই খাতের মোট ঋণের ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ এখন খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত। খেলাপিকৃত ঋণ বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। ব্যাংকটির খেলাপিকৃত ঋণ এক ধাপেই ৪ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা বেড়ে ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,৩৪টির অধিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে আশঙ্কাজনক ভাবে। তাছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছরই খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগ জনক হারে বাড়ছে বলে জানা যায়। যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, গত এক দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাপক অনিয়ম, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শিথিল নিয়মের কারণে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ। বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি শুধু ব্যাংকগুলোর মুনাফা ও মূলধনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও বিরাট ঝুঁকি তৈরি করছে। ঋণ প্রদানে স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দ্রুত ঋণ পুনরুদ্ধার এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। লেখক: শিক্ষার্থী, ডুয়েট,গাজীপুর।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

  রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। একই সঙ্গে দণ্ডিত সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিমের আইনগত উত্তরাধিকারকে প্রদান করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশও দেন আদালত। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে বেলা ১১টার পর রায় ঘোষণা শুরু হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন ভিকটিমের বাবা পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে ২৪ মে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় রায় ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেন। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

ডুয়েটের আশেপাশের এলাকা ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য, প্রসাশনের নিরব ভূমিকা

  মোঃ রুবেল হোসেন ডুয়েট প্রতিনিধি,গাজীপুর। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এবং এর আশেপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। ছিনতাইকারী চক্রের প্রথম ও প্রধান টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে ডুয়েটের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও ডুয়েটে ভর্তিচ্ছুক বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা। ​বিশেষ করে গাজীপুর চৌরাস্তা, রেলগেটের মোড় এবং জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের আশেপাশে প্রতিটি মোড়, অলি গলি এই ধরণের অপরাধ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কার্যত এসব এলাকা ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ​বিগত বেশ কয়েক মাসের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী থেকে তাদের মোবাইল, ল্যাপটপ এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত রমজান মাসের শেষের দিকে ডুয়েটে অধ্যয়নরত পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ নাঈম জয়দেবপুর রেলস্টেশন দিয়ে যাত্রা কালে ট্রেনে থাকাকালীন ছিনতাইকারী কবলে পরে ল্যাপটপ, মোবাইল সহ নাইমের দুই পা দুর্বৃত্তদের ধাক্কায় ট্রেন লাইনে কাটা পরে পঙ্গুত্ববরণ করে মানবতার জীবনযাপন করছেন। এছাড়াও পুরকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অতনু মল্লিক, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল সহ আরো অনেকেই ছিনতাইকারীদের কবলে পরে নিজেদের সর্বস্ব হারান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন সময় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ফাঁদে ফেলে কাছে থাকা সমস্ত কিছু ছিনিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। ​তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, প্রতিনিয়ত প্রসাশনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানোর পরও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বরং নিয়মিত ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের এই বিষয় নিয়ে তেমন কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ​ডুয়েট শিক্ষার্থী এবং ভর্তিচ্ছুদের পক্ষ থেকে ডুয়েট প্রশাসনকে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই নয়, শিক্ষার পরিবেশকেও বিপন্ন করছে। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ খুবই জরুরি। ​ডুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি, অবিলম্বে ডুয়েট এলাকার আশেপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, নিয়মিত পুলিশ টহলসহ ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি ।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের তার চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির পর সচিবালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ায় প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টেলিফোন লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, গত ১ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় কার্যালয় পরিদর্শনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেখতে পান রেড টেলিফোনে কোনো সংযোগ নেই। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কাজ শুরু করে। প্রায় সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর বিকেল ৩টার দিকে সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে এমন একটি সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলে মনে করছেন তারা।

বিটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং সরকারের একাধিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।

এদিকে বিটিসিএল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ কপার ক্যাবলের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও তার কাটা ছিল, আবার কিছু স্থানে তার অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোন নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।

চিঠিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত, বিভিন্ন সময় আন্দোলনকারীদের সহজে প্রবেশ এবং নিরাপত্তা বলয়ের দুর্বলতা প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

গণমাধ্যমকে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত কার্যালয় হিসেবে সচিবালয় ব্যবহৃত হচ্ছে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় অনেক ব্যবস্থা এখনও গ্রহণ করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারাও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া গভীর তদন্তের দাবি রাখে। এ কারণে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুরক্ষা আরও জোরদার করা জরুরি।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন কুবি শিক্ষক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

  কুবি প্রতিনিধি : জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি জাপান (এসবিজে)-এর এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেন। সোমবার (১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। জানা যায়, বায়োটেকনোলজি বিষয়ে গবেষণায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ২০২৬ সালের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে)-এর ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ -এর জন্য আমি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। তারা আমাকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং পুরস্কার গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আগামী ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্তের যাবতীয় ব্যয়ভার (যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য খরচ) তারা বহন করবে। এই সাফল্য আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা রইল।’ উল্লখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি জাপান (এসবিজে) জাপানের একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংগঠন, যা জীবপ্রযুক্তি ও জীবনবিজ্ঞানের গবেষণা, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করে থাকে।

সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল সরতে পারে,মন্ত্রীসভায় আসছে রদবদল

  ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর আরও বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি কয়েকটি দপ্তরে রদবদলের হওয়ার বিষয়টি সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করার পর আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরও গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই ঘোষণা আসতে পারে।   মূলত জনসেবা ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে শিগগিরই এ সম্প্রসারণ হতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ রবিউল আলম রবিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকেও সরানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরও কয়েকজনকেও সরিয়ে একক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হচ্ছে, যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি, সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা। একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মাত্র দপ্তরে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন তিনি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন পদক্ষেপে কয়েকজন উপমন্ত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসন থেকে একজন সদস্যকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুন্নবী খান সোহেল এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের নাম শোনা যাচ্ছে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে নিযুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। আলোচনায় আছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। একাধিক অঞ্চলও গুরুত্ব পেতে পারে। এরইমধ্যে বিএনপি সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুন) ডেইলি ক্যাম্পাসকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। দলটির মনোনয়নে পার্বত্য রাঙামাটি থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। রাঙামাটি আসনে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলে সর্বোচ্চ ব্যবধানে বিজয়ী হন তিনি। এরপর তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি পদত্যাগ করায় এ মন্ত্রণালয়েও নতুন মুখ আসবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে অর্থ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কাঁধে থাকায় কাজের গতি ধীর হচ্ছে। এ চাপ সামলাতে এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো প্রধানমন্ত্রীর একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। ২০০১ সালেও বিএনপি সরকারের সময় প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৬০ জনে উন্নীত করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও দলীয় সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই নতুন নিয়োগ ও রদবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান ও সরকার প্রধান তারেক রহমানই ভালো বলতে পারবেন। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেন এটা তার এখতিয়ার।’  

নেচার ইনডেক্স র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে শীর্ষে আইইউবি

আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্ম ‘নেচার ইনডেক্স ইনস্টিটিউশনাল র‍্যাংকিংয়ে’ বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। সামগ্রিকভাবে দেশের সব গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইইউবির অবস্থান পঞ্চম এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আইইউবি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান (ফিজিক্যাল সায়েন্সেস) গবেষণার ক্ষেত্রেও এই র‍্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আইইউবি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে এই বিখ্যাত বৈশ্বিক র‍্যাংকিং তৈরি করা হয়। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাকর্মের ওপর ভিত্তি করে এবারের মূল্যায়নটি করা হয়েছে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় মোট চারটি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে আইইউবির নেচার ইনডেক্স শেয়ার স্কোর দাঁড়িয়েছে ০.৬৩। আইইউবির সেন্টার ফর কম্পিউটেশনাল অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সেসের (সিসিডিএস) কম্পিউটেশনাল ফিজিক্স উইংয়ের পরিচালক ও ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জুয়েল কুমার ঘোষের দুটি গবেষণা প্রবন্ধ এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে ভূমিকা রেখেছে। প্রবন্ধ দুটি হলো “স্কেল উইদাউট কনফর্মাল সিমেট্রি ইন হাইড্রোডায়নামিক্স” এবং “হাইড্রোস্ট্যাটিক ইকুইলিব্রিয়াম ইন মাল্টি-ওয়েইল সেমিমেটালস”। এগুলো প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে ইউরোপিয়ান ফিজিকেল জার্নাল সি এবং জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্সে। এছাড়া আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের (কাসা) সহযোগী সদস্য ড. আনোয়ার জামান সজীব “অ্যান অ্যাকিউরেট মেজারমেন্ট অফ দা স্পেকট্রাল রেজোলিউশন অফ দা জেডব্লিউএসটি নিয়ার ইনফ্রারেড স্পেক্টোগ্রাফ” শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধটিও এই র‌্যাংকিংয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। এটি প্রকাশিত হয়েছিলো অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রফিজিক্স সাময়িকীতে। আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, অর্থবহ বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অনুসন্ধানভিত্তিক গবেষণা সংস্কৃতি প্রয়োজন। আইইউবি গত কয়েক বছরে সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতার প্রতিফলন। আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড বলেন, নেচার ইনডেক্স বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্বের স্বীকৃত শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাকে মূল্যায়ন করে। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে আইইউবির অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও মানকে তুলে ধরেছে। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা নেচার ইনডেক্সকে উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেচার, সায়েন্স, নেচার ফিজিক্স, দা ল্যানসেট, সেল, জার্নাল অফ হাই এনার্জি ফিজিক্স এবং অ্যাস্ট্রোনমি ও অ্যাস্ট্রফিজিক্স-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ এই সূচকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।