সর্বশেষ নিবন্ধ

বিনা বেতনে পাঠদান: গোবিপ্রবির খণ্ডকালীন শিক্ষকদের দীর্ঘ দেড় বছরের বঞ্চনা

তাছিন জায়েফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত খণ্ডকালীন শিক্ষকরা দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করলেও বেতন না পাওয়ায় মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকলেও স্থায়ী নিয়োগের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে এসব শিক্ষকের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট মোকাবেলায় খণ্ডকালীন ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন খন্ডকালীন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তারা নেওয়া ক্লাসের সংখ্যার ভিত্তিতে সম্মানী পেয়ে থাকেন। এসব শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস গ্রহণ, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, মৌখিক পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তবে ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই তাদের বেতন পরিশোধ বন্ধ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খণ্ডকালীন শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। শুরুতে নিয়মিত বেতন পেলেও ২০২৫ সালের শুরু থেকে হঠাৎ করেই বেতন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প চাকরির সন্ধান করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করেন। বেতন ছাড়া ইতোমধ্যে চারটি ঈদ পার করা এক খণ্ডকালীন শিক্ষক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে ক্লাস নিচ্ছি। কিন্তু দেড় বছর ধরে বেতন না পাওয়ায় চরম সংকটে আছি। বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাইনি। কখনো বলা হয় ইউজিসি থেকে বাজেট এলে বেতন দেওয়া হবে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।” এদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। বেতন বন্ধ থাকলে শিক্ষকরা নিরুৎসাহিত হবেন, যা শিক্ষার পরিবেশ ও মানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মোশিকুর রহমান বলেন, “ইউজিসি থেকে অর্থ বরাদ্দ এসেছে। আশা করছি আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, “এখানে অধিকাংশ খণ্ডকালীন শিক্ষক ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত ছিলেন না। এছাড়া ইউজিসি থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম অর্থ বরাদ্দ পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আশা করছি, চলতি মাসের মধ্যেই অন্তত বকেয়া অর্থের একটি বড় অংশ পরিশোধ করা যাবে।”  

মালয়েশিয়াতে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে কুবি শিক্ষার্থীরা, আবেদন শুরু আজ

  কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সারাওয়াক (ইউনিমাস)-এ এক সেমিস্টারের স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে জুনের ২৮ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত। বুধবার (১৭ জুন) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) এ থাকা অংশীদার প্রতিষ্ঠান ইউনিমাস এর প্রোগ্রামে অংশ নিতে আবেদনকারীদের অন্তত প্রথম বর্ষ বা দ্বিতীয় সেমিস্টার সম্পন্ন হতে হবে। পাশাপাশি তাদের সিজিপিএ ২ দশমিক ৭৫ বা তার বেশি থাকতে হবে। এ ছাড়াও আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণও জমা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে IELTS 5.0, TOEFL iBT 42, PTE 47, Cambridge 154, CEFR B1 অথবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত নির্দিষ্ট সনদের যেকোনো একটি গ্রহণযোগ্য হবে। আরও বলা হয়, আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত আবেদন ফরম ও চেকলিস্টে উল্লিখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পিডিএফ করে info@cou.ac.bd এই ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। ই-মেইলের বিষয় হিসেবে “UNIMAS Application” উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক একাডেমিক পরিবেশে, আন্তঃসাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক সুযোগ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা অর্জনে সহায়তা করবে।

এবার সংসদে সরকারি বাসার জন্য ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চেয়েছেন জামায়াতের এমপি

ডেস্ক রিপোর্ট: চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মু. মিজানুর রহমান সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চেয়েছেন। বুধবার বিকেল ৩টা ২ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি ফ্ল্যাটের জানালা-দরজায় এখনো পর্দা ঝোলানো হয়নি। তিনি ফ্ল্যাটের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জোরালো করে আরও বলেন, “আমরা শুনেছিলাম, আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়া হবে। এই পর্দা, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।” এদিকে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দি আটক রয়েছে। তিনি আজ সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্তি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে সর্বমোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ (পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭ + মহিলা ২ হাজার ২৯) জনের বিপরীতে বর্তমানে ৭৭ হাজার ৪০ জন (পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬ + মহিলা ২ হাজার ৭৭) জন বন্দি আটক আছে, যা ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ।  

গোপনে বিয়ে, ঢাকা কলেজে স্ত্রীর অবস্থান: লাপাত্তা স্বামী ছাত্রদল নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট: গোপনে বিয়ের পর স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়ার দাবি তুলে ঢাকা কলেজের হলপাড়ায় অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। ভুক্তভোগী তরুণী (২৬) ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার জনগাওয়ের বাসিন্দা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের সামনে ওই তরুণীকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে দেখা যায়। তার উপস্থিতির বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে এলে হলপাড়াজুড়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। এদিকে, এ খবরে কলেজ থেকে লাপাত্তা রয়েছেন অভিযুক্ত খালিদ পারভেজ। তিনি ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। অভিযুক্ত পারভেজ ঢাকা কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র বলে জানা গেছে। এছাড়া পারভেজ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য। বিয়ের কাবিননামা অনুযায়ী, অভিযুক্ত মো. পারভেজ (২৭) ঠাকুরগাঁও জেলার মালিগাও এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের মার্চের ১৫ তারিখ পঞ্চান্ন হাজার পাঁচশ পঞ্চান্ন টাকা দেনমোহরে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার এক বছর পর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উভয়ের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। তিনি বর্তমানে রাজশাহী কলেজের একজন শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে কিন্তু এখন সে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করছে না। বিষয়টির সুরাহার আশায় আমি ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় এসেছি। তিনি আরও বলেন, পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রথমে তিনি ফোনে জানান যে তিনি ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। পরে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে তার মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী খালিদ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই তরুণী তার বৈধ স্ত্রী। তবে পূর্বসম্মত শর্ত ভঙ্গ করেই তিনি ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে এসে অবস্থান নিয়েছে। ওর সঙ্গে আমার বন্ধু ও জুনিয়ররাও কথা বলেছে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবেই ও সেখানে গেছে। বিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পারভেজ জানান, তাদের বিয়ে রমজান মাসের ১৫ তারিখে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের পর তারা দীর্ঘদিন একসঙ্গেই ছিলেন। পরে ছুটি কাটাতে তরুণী নিজ বাড়িতে যান। সেখান থেকে তার মেসে ওঠার কথা ছিল। পারভেজের দাবি, বিয়ের আগে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল যে তিনি আগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন, এরপর তারা স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাস করবেন। তিনি আরও বলেন, সে (ভুক্তভোগী তরুণী) আমাকে দুই বছর সময় দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু আমি এখনো কোনো চাকরি করি না। বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছি। অথচ বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় সে আমার সঙ্গে এ নিয়ে ঝামেলা করছে। যোগাযোগের পর অভিযুক্ত পারভেজ ফিরে না আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান ওই তরুণী।  

পদত্যাগ করলেন আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক

  রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির অনুমোদন বাতিলের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগ করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুলের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদ ডা. শেখ মহিউদ্দিনের স্বেচ্ছায় নেওয়া অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে অধ্যাপক জামালুন্নেসার ওপর। অধ্যাপক জামালুন্নেসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, যিনি ২৫ বছরেরও বেশি সময় অধ্যাপনা শেষে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে মাস্টার্স করার পর তিনি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় পুরো দেশের সঙ্গে আদ্‌-দ্বীন পরিবারও গভীরভাবে শোকাহত। ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি দিকনির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। হাসপাতালের আলো-বাতাস চলাচল ও অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করতে তিনজন স্বাধীন কনসালটেন্টের নেতৃত্বে পরিমার্জনের কাজ চলছে। এছাড়া হাসপাতালের করপোরেট অফিসের ওপরে অবস্থিত বেকারিটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে এর অধীনে ৯টি হাসপাতাল ও ৫টি মেডিক্যাল কলেজসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অনুমোদন বাতিলের ফলে এর সঙ্গে যুক্ত থাকা ১৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী (যার অধিকাংশই নারী) এবং ২০৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৪৬ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দুই সহস্রাধিক মানুষের এই পেশাগত ও শিক্ষাগত ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এবং রোগীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আদ্‌-দ্বীন ফাউন্ডেশন এখন সর্বোচ্চ অঙ্গীকার করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে টিনের বেড়া: থমকে আছে কাজ

  ডেস্ক রিপোর্ট: দীর্ঘ ছয় বছরেও সম্পন্ন হয়নি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ। চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারে নামফলক ও লোগো সংযোজন করা হলেও এখনো থমকে আছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। প্রবেশমুখে রয়েছে টিনের অস্থায়ী বেড়া, বৃষ্টির পানির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২২ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির পরও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে নির্মিত ফটকটি বর্তমানে কেবল একটি অসম্পূর্ণ অবকাঠামো হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজের অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়টিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানারকম ট্রল ও  ধারাবাহিক দাবির মুখে চলতি বছর ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলক ও লোগো স্থাপন করা হলেও রং, নান্দনিকতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সমাপ্তিকরণ কাজ এখনো অসমাপ্ত। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকের একপাশে এখনো রয়েছে টিনের অস্থায়ী বেড়া, ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। এছাড়া গেটের সামনের অংশে বৃষ্টির পানি জমে ছোটখাটো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে পড়ে আছে ভাঙা টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী ও ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারের সৌন্দর্যকে আরো বেশি ম্লান করে দিয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পরিচয় ও প্রথম প্রতিচ্ছবি। বাইরের কোনো ব্যক্তি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যায়, তখন সে মেইন গেট দেখেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা গড়ে তোলে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এত বছর পরও আমরা সেই গেটের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি অবকাঠামোগত অপূর্ণতা নয়, বরং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ সময়েও নিজের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাজ শেষ করতে পারে না, তার অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়। এই অচলাবস্থা প্রশাসনিক দুর্বলতা, সমন্বয়ের অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতিরই প্রতিফলন।’   এ বিষয়ে গোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘বাজেট সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাজ এখনো পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা এখন বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ পেয়েছি। আগামী মাসের মধ্যে ফটকের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে এবং আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।’ মেইন গেটের একপাশে থাকা টিনের অস্থায়ী বেড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই টিনের বেড়াটি অপসারণ করা হবে।’

সড়ক দুর্ঘটনায় মানারাত ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র নিহত

  রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র মো. আবু জোবায়ের (২২) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) রাত প্রায় ১১টায় মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির নিকট এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর নিকট তাদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক প্রার্থনা করেন। মো. আবু জোবায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেট ক্লাব (এমআইইউডিসি)’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমআইইউডিসির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জন করেন এবং তাঁর মেধা, ভদ্রতা ও আন্তরিকতার কারণে সহপাঠী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। মো. আবু জোবায়েরের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগীরপাড়া এলাকায়। তাঁর পিতা মো. আবুল কালাম আজাদ একজন কৃষক এবং মাতা জহুরা বেগম গৃহিণী। পরিবারে তাঁর একমাত্র ছোট ভাই রয়েছে, যিনি বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। কয়েক বছর আগে তাঁর বড় ভাইও মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ফলে জোবায়েরের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর মা জহুরা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের কাছে তাঁর সন্তানের জন্য দোয়া কামনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে চাচাতো ভাই আবিদ জানান, জোবায়ের মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় খালার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন। সোমবার রাতে তিনি আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশাযোগে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির নিকট দ্রুতগামী একটি ট্রাক পেছন থেকে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অন্য দুইজন সামান্য আহত হলেও জোবায়ের গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আবু জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ নিজ জেলা দিনাজপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম মো. আবু জোবায়েরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হচ্ছে। তার রুহের মাগফেরাত কামনায় আজ মঙ্গলাবার বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামাজের স্থানে আইন বিভাগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ বাজেট: প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দে দ্বিতীয় ডুয়েট

  ডুয়েট প্রতিনিধি: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত বাজেটে দেশের পাঁচটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ৯৭ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। মোট বাজেটের হিসেবে ডুয়েট চতুর্থ অবস্থানে থাকলেও শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দের হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা যায়, দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এরপর রয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ১১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ডুয়েট ৯৭ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ৯৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। তবে শিক্ষার্থী সংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দের হিসাবে বুয়েটের অবস্থান প্রথম, যেখানে একজন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার ২৩১ টাকা। ডুয়েটে শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ১৬৯ টাকা, যা পাঁচ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এরপর রয়েছে চুয়েট (১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৩ টাকা), কুয়েট (১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৩ টাকা) এবং রুয়েট (১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৩ টাকা)। নতুন অর্থবছরের ৯৭ কোটি ৬ লাখ টাকার বাজেট কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ডুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস বলেন, “বাজেটের রূপরেখা এখনো তৈরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ হিসাব নিয়ন্ত্রক এটি তৈরি করেন। এরপর সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকে অনুমোদন পাবে। চলতি মাসের ২৮ বা ২৯ তারিখে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।” অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে নতুন বাজেট কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এশিয়ার প্রভাবশালী গবেষকের তালিকায় আইইউবির শিক্ষিকা ড. সাবরিনা

  সম্প্রতি ‘উইমেন ইন স্টেম’ শিরোনামে এশিয়ার একটি প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাকাডেমিস অ্যান্ড সোসাইটিজ অব সায়েন্সেস ইন এশিয়ায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের চারজন নারী গবেষক। এশিয়ার প্রভাবশালী নারী বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রাখা নারী এক্টিভিস্টদের এই তালিকায় তুলে ধরা হয়। এ বছর ৪৬ জন স্থান পেয়েছেন এই তালিকায়। বাংলাদেশী চার নারী গবেষকের তালিকায় আছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের লাইফ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা ইলিয়াস;আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী ড. আলিয়া নাহিদ; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শারমিন সুলতানা এবং শেকৃবির অধ্যাপক ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী ড. কামরুন নাহার। ড. সাবরিয়া ইলিয়াস কাজ করছেন লবণাক্ত মাটিতে ধান উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরে। কলেরা, শিগেলা ও টাইফয়েড দ্রুত শনাক্ত করা ড. আলিয়া নাহিদের অসামান্য অবদানগুলোর একটি। ড. শারমিন সুলতানা প্লাজমা পরিবেশে তরঙ্গের ছড়িয়ে পড়ার গতিবিধি নিয়ে গবেষণা করছেন। ড. কামরুন নাহার খরা, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ সহ্য করে ধান ও গম টিকিয়ে রাখার পদ্ধতি অন্বেষণ করে চলেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বাতিল

বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে। রোববার (১৪ জুন) ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আস্থাহীনতা, গ্রাহকদের ব্যাপক আমানত প্রত্যাহার এবং তারল্য সংকটের প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ব্যাংকটির চলমান পরিস্থিতি এবং সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন সাংবাদিকদের জানান, গত দুই দিনে দৈনিক গড়ে জমা বাদে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা নিট উত্তোলন হয়েছে। তিনি বলেন, সোমবার পরিস্থিতি কেমন হতে পারে সে বিষয়ে গভর্নরকে ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনের কারণ বা পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার দুপুরে ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিরাপদ রয়েছে এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম নয় দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা। শেষ দুই দিনে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের চাপ তৈরি হওয়ায় ব্যাংকটি ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়ে আবেদন করে।