সর্বশেষ নিবন্ধ

তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসায় আলিম পরিক্ষার্থীদের গাইডলাইন ও দু’আ অনুষ্ঠিত।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ২৫,জুন ২০২৬ রোজ বৃহস্পতিবার , তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসার আলিম পরিক্ষার্থীদের গাইডলাইন ও দু’আ এর আয়োজন করা হয়। তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব হাবিবুল্লাহ মোহাম্মদ ইকবাল -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামিক স্কলার,মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব শায়খ ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার, হেড মুহাদ্দিস,মাদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল জনাব ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন এর ভাইস চেয়ারম্যান শাহ ওলিউর রহমান চিশতি তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব ড. মীম আতিকুল্লাহ। অত্র প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল জনাব এরশাদুল্লাহ আজহারীর উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অত্র প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ও তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর এইচ এম আবদুল্লাহ আল মামুন। অভিভাবকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড. মতিউল ইসলাম। এবং আলোচনা রাখেন দারুল ফালাহ ছালেহিয়া সাহেব আলি ফাযিল মাদরাসার সম্মানিত প্রিন্সিপাল এবং হল সচিব,আলিম পরিক্ষা ২০২৬,আলহাজ্ব আবু জাফর মোঃ ছাদেক হাসান। অনুষ্ঠানে আলিম পরিক্ষার্থীদের সম্পাদিত “Riviving of lost glory” শীর্ষক দেয়ালিকার মোড়ক উন্মোচন করেন আগত মেহমানবৃন্দ। মানপত্র পাঠ করেন আলিম পরিক্ষার্থীর মেধাবি ছাত্র লুৎফর রহমান। এবং ছাত্রদের মধ্য থেকে আরো বক্তৃতা পেশ করে মাহদি হাসান এবং ইংরেজি বক্তব্য প্রদান করে খাইরুল বাশার। এবং আরো উপস্থিত ছিলেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন এর বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষক কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলবৃন্দ। সর্বশেষ দু’আ পরিচালনা করেন অত্র অনুষ্ঠানের প্রধান মেহমান ও প্রধান আলচক শায়খ ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার।

মিটফোর্ড হসপিটালে চিকিৎসকদের উপর হামলা, চিকিৎসকদের প্রতিরোধে টয়লেটে আশ্রয় নিলেন জবি ছাত্রদল সভাপতি

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের দাবি, ঘটনার সময় হিমেলের সঙ্গে আরও ১০-১২ জন ছিলেন। হামলার পর চিকিৎসকদের প্রতিরোধের মুখে তিনি হাসপাতালের একটি টয়লেটে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে সেখান থেকে বের করে আনে। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ জুন) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, ১০-১২ জন ব্যক্তি সার্জারি বিল্ডিংয়ের ৪২৯ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক হামলা চালায়। সংগঠনটি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১ মার্চ হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হলেও প্রায় চার মাস পার হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর চার দফা দাবি জানিয়েছে আইডিএ। দাবিগুলো হলো— প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। আইডিএ জানিয়েছে, দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের সব বিভাগে কর্মবিরতি চলবে। হাসপাতালের একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থ এক রোগীকে হাসপাতালে আনার পর ভর্তি ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছু সময় লাগায় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তারা দাবি করেন। একজন চিকিৎসক অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের পরিচয় দিয়ে চিকিৎসকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। তবে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তারা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেহেদী হাসান হিমেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, রাতে হাসপাতালে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।

জামায়াত নেতাকর্মীদের হামলায় আহত সাংবাদিক

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ব্রিফিং চলাকালে সাংবাদিকদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে দৈনিক সকালের রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক দল হিসেবে আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারানো ও পরবর্তী সময়ে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। এই কর্মসূচিতে জামায়াত নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, আনিসুজ্জামান, জাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল শেষে ব্রিফিং চলাকালে সিনিয়র একজন সাংবাদিককে কথা বলার অনুরোধ করা হলে উপস্থিত জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে আখ্যা দেন। সংবাদকর্মীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে জামায়াত সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং আকস্মিক হামলা চালান। এই হামলায় দৈনিক সকালের রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর জখম হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার শিকার ওই সাংবাদিকের মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা গেছে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে দাবি করেছেন ধানমন্ডি থানা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমান খান। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগত কেউ ঢুকে পড়ে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।”

তুরস্কের ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রাম (ভিএসপি)- এ অংশ নেবেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন

  কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ও তুরস্কের Tokat Gaziosmanpaşa Üniversitesi-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত এক্সচেঞ্জ এগ্রিমেন্টের আওতায় পরিচালিত ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রাম (ভিএসপি)-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) থেকে পাঁচজন (শিক্ষক-শিক্ষার্থী) চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নির্বাচিতরা হলেন, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হালিমা আক্তার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক আকিলা রুবাইয়াথ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের পিএইচডি গবেষক মো. মোজাম্মেল হক, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী (এমএসএস) মো. হাসান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী (এমএসএস) মাঈনুদ্দীন হাসান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তুরস্কের Tokat Gaziosmanpaşa University-তে একাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচিত অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাঈনুদ্দীন হাসান বলেন, “ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রাম (ভিএসপি)-এর জন্য নির্বাচিত হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এটি আমার একাডেমিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। পাশাপাশি আমার শিক্ষক, পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যাদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। আমি সবার কাছে দোয়া কামনা করছি, যেন এই সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারি।” বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান বলেন, “তুরস্কের তোকাত গাজিওসমানপাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রাম (ভিএসপি)-এ অংশগ্রহণের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু আবেদন পেয়েছিলাম। আবেদনগুলো আমরা তুরস্কে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাই। পরবর্তীতে তারা আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে পাঁচজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেছে। নির্বাচিতদের মধ্যে আমাদের দুইজন শিক্ষক, পিএইচডি গবেষক ও দুইজন স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রত্যেকের জন্য একজন করে মেন্টর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তাদের ই-মেইলে আমন্ত্রণপত্র (ইনভাইটেশন লেটার) পাঠানো হয়েছে। এখন তারা ভিসা প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করবেন। আমাদের পার্টনার বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তারা নির্বাচিতদের প্রয়োজনীয় তথ্য দূতাবাসে সরবরাহ করে, যাতে ভিসা-সংক্রান্ত কার্যক্রম সহজ হয়। ভিসা প্রাপ্তির পর তারা তুরস্কে গিয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।”

মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় আইইউবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

  রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরাফাত রহমান শাওন (২৩) নামে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের এক শিক্ষার্থী ইন্তেকাল করেছেন। এই ঘটনায় মো. শাহজাহান মিয়া (৫০) নামে এক পথচারী আহত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাত সোয়া ১১টার দিকে ফকিরাপুল রহমানিয়া হোটেলের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাত ১২টার দিকে শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে মৃত শাওনের বন্ধু আলিফ জানান, তাদের বাসা হাতিরঝিল মধুবাগ মীরেরটেক এলাকায়, শাওন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করতো। রাতে দুজন মোটরসাইকেলে করে পুরান ঢাকায় যাচ্ছিল। মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল শাওন। ফকিরাপুল এলাকায় আসলে এক ব্যক্তি রাস্তা পারাপারের সময় তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে শাওন ও ওই ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর হয়। এরপর তাদের দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শাওনকে মৃত বলে জানান। মৃত শাওনের বাড়ি গাজীপুর জেলার টঙ্গি নিশাত নগর এলাকায়। তার বাবার নাম লুৎফর রহমান। বর্তমানে মধুবাগ মীররটেক এলাকায় থাকতো। এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়তো। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য মতিঝিল থানায় জানানো হয়েছে। আহত শাহজাহানকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।  

মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত আর্জেন্টিনার

  বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করলেও অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ বেশ কিছু সময় পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই দেয়াল ভাঙেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয় রেফারিকে। আর্জেন্টিনার আক্রমণে বক্সের মধ্যে লাউতারো মার্তিনেজকে ফাউল করা হলে প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে দেন রেফারি। পরে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। তার শট ডান পাশের পোস্টের বাইরে চলে গেলে ক্যারিয়ারের ৩৩তম পেনাল্টি মিসের রেকর্ডে নাম লেখান তিনি। এরপর ১৯তম মিনিটেও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। লাউতারো মার্তিনেজের পাস থেকে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলেও অতিরিক্ত টাচ নেওয়ায় সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজেন্ডার শ্লাগার দারুণভাবে শটটি প্রতিহত করেন। তবে বারবার চেষ্টা করে অবশেষে সফল হন মেসি। ৩৮তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে থিয়াগো আলমাদার চমৎকার পাস এবং বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার নিচু কাটব্যাক পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে উন্নীত করেন মেসি এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে জায়গা করে নেন। বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে আর্জেন্টিনা। তবে অস্ট্রিয়াও সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়। ৫৫তম মিনিটে মার্সেল সাবিৎসারের শক্তিশালী ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে কর্নার থেকে আরেকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন মেসি। তার নিখুঁত ক্রস থেকে গঞ্জালো গঞ্জালেস হেড করলেও বল অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। নাটকীয়তার শেষ দৃশ্যটি দেখা যায় যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। নিজের পা থেকে শুরু হওয়া আক্রমণ নিজেই সফলভাবে শেষ করেন মেসি। জুলিয়ান আলভারেজের শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮-তে এবং আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। মেসির জোড়া গোলের সৌজন্যে শুধু নকআউট পর্বের টিকিটই নয়, শিরোপা ধরে রাখার মিশনেও আরও একধাপ এগিয়ে গেল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। দুই ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রিয়া। অন্যদিকে জর্ডান ও আলজেরিয়া এখনও কোনো পয়েন্টের দেখা পায়নি। আর্জেন্টিনার সামনে এখন গ্রুপসেরা হিসেবে পরবর্তী পর্বে ওঠার সুযোগ আরও উজ্জ্বল।

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বলায় ডিসি সরওয়ারকে প্রত্যাহার: ছাত্রশিবির সভাপতি

  সাতক্ষীরা, ২২ জুন: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম দাবি করেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দেওয়ার কারণেই সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সরওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একটি সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “সিলেটের ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কী কারণে? তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, মাজারে কোনো মাদক চলবে না। সরকারের পুরো সিন্ডিকেট এই মাদকের সঙ্গে জড়িত। লাখ লাখ কোটি টাকার এই ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করে। সমাজকে তারা স্থিতিশীল থাকতে দেয় না। কারণ, মাদকসেবীরাই তাদের অনুসারীতে পরিণত হয়।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী সম্পৃক্ত রয়েছে এবং সংগঠনটির সাবেক সদস্যদের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। শিবির সমাজে আদর্শবান, সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সরকার ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও ডিলারশিপ ছাত্রশিবির ধ্বংস করে দিচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ হয়েছে, সেখানে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথা বলেছি। এরপর একটি কমিউনিটি আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এখন তারা ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা বা সেবন করতে পারে না; দূরে গিয়ে করতে হয়। এতে তাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান এবং সঞ্চালনা করেন শহর শাখার সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর চায় শিক্ষার্থীরা, ছাত্রদলের বিরোধিতা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। তবে এই দাবির বিরোধিতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য চলাকালীন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং বক্তব্য থামিয়ে সরাসরি ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আস্তে, দূর, আমি মিটিং শুরু করছি। এই ছাত্রদল, তোমরা একটু ডিসিপ্লিনটা মেইনটেন কর। ছাত্রদল, তোমরা একটু মিটিংটা ডিসিপ্লিন কর। তোমরা তো আমার ছাত্রদল, নাকি? তোমাদের গর্ব তো আমি, তো তুমি একটু ডিসিপ্লিন মেইনটেন কর। ​শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শান্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রী যখন ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুরু করেন, ঠিক তখনই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নোবিপ্রবির একাডেমিক ভবন ৩-সহ ৩৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার দাবি তোলেন। দুর্নীতিমুক্তভাবে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে প্রকল্পগুলো সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের দাবিতে তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার প্রদর্শন করেন এবং ‘এক দুই তিন চার, আর্মি হবে ঠিকাদার’ স্লোগান দিতে থাকেন।

​শিক্ষার্থীদের এই দাবির সাথে সাথেই মিলনায়তনে উপস্থিত নোবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এর তীব্র বিরোধিতা করে পাল্টা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। এসময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ‘মবের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশন’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও বাকবিতণ্ডা দ্রুতই ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতাহাতির একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীর সামনেই দাবি উত্থাপনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে অডিটোরিয়ামের ভেতর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী, যার ফলে অনুষ্ঠানস্থলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

​পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং বক্তব্য থামিয়ে সরাসরি ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আস্তে, দূর, আমি মিটিং শুরু করছি। এই ছাত্রদল, তোমরা একটু ডিসিপ্লিনটা মেইনটেন কর। ছাত্রদল, তোমরা একটু মিটিংটা ডিসিপ্লিন কর। তোমরা তো আমার ছাত্রদল, নাকি? তোমাদের গর্ব তো আমি, তো তুমি একটু ডিসিপ্লিন মেইনটেন কর। ​শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শান্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান।

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান মারামারির ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো ঝগড়া বা মারামারি ঘটনা ঘটেনি। আমাদের দাবি স্পষ্ট, আমরা তাদেরকে বলছিলাম তোমাদের যদি কোনো দাবি থাকে সেটা স্মারকলিপি আকারে দাও, একটি সরকারের মন্ত্রীকে যেভাবে দেওয়া উচিত। এরপরও তারা যেভাবে করেছে, আমরা তাদেরকে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করিনি, এটা তাদের গণতান্ত্রিক চর্চা।’

​তিনি বলেন, ‘এখানে কারও গায়ে হাত দেওয়া হয়নি। জাহিদ (দাবি উত্থাপনকারী শিক্ষার্থী) এগিয়ে গিয়ে ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করছিল, আমরা গিয়ে বুঝিয়েছিলাম যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। আমাদের বাধা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে তারা যখন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে ঢুকছিল, তখনই বাধা দিতাম।’

​বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ প্রমুখ।

গোল্ড মেডেল এওয়ার্ডের আয়োজন করেছে ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা

চব্বিশের ছাত্র জনতার বিপ্লবে শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘৩৬ জুলাই মেমোরিয়াল মেরিটোরিয়াস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব শাখা। এই আয়োজনে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাকাডেমিক সম্মাননা প্রদান করা হবে। আয়োজকদের মতে, ‘মেধার স্বীকৃতি, আগামীর নেতৃত্বের প্রস্তুতি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানটি আগামী ২৪ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেল ৪টায় বসুন্ধরা গেটে অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদনের শেষ সময় আগামী ২৬ জুন ২০২৬।

ক্যাটাগরি ও যোগ্যতা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে দুটি ক্যাটাগরিতে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এ-ক্যাটাগরি (Excellence Award) যেসব শিক্ষার্থী ন্যূনতম ৬ সেমিস্টার সম্পন্ন করেছেন এবং সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৪.০০ অর্জন করেছেন, তারা এ-ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। পুরস্কার হিসেবে থাকবে গোল্ড মেডেল ও সম্মাননা ক্রেস্ট।

-ক্যাটাগরি (Merit Recognition Award) যেসব শিক্ষার্থী ন্যূনতম ৩ সেমিস্টার সম্পন্ন করেছেন এবং সিজিপিএ ৩.৭০ বা তার বেশি অর্জন করেছেন, তারা বি-ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে পারবেন। পুরস্কার হিসেবে থাকবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার।

আবেদন শর্তাবলি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব শাখার আওতাধীন উত্তরা, খিলক্ষেত, বসুন্ধরা, বাড্ডা ও হাতিরঝিল এলাকায় অবস্থিত ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা এ সম্মাননার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, মেধার যথার্থ মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের মাঝে অধ্যবসায়, সততা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। এই আয়োজন কেবল একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নকে বড় করে দেখার সুযোগ তৈরি করবে। জুলাই আন্দোলনের বীরদের স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত আবেদনগুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মোবাইল ও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট, স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ছবি এবং ২৫০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি (বিকাশ/নগদ) পরিশোধের তথ্যসহ অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইন আবেদনের লিংক: [https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdz28drOZdGYJJ6HV70apYya-HI10L4IR8tpat9rYv_ILw6qQ/viewform?usp=publish-editor]

গাইবান্ধায় যুবদল নেতা কর্তৃক ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতিকে হত্যা

  গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নামে এক ছাত্রশিবির নেতাকে যুবদল নেতা কর্তৃক হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)। রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে। তিনি রংপুরের একটি কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। রোববার বিকেলে বোনারপাড়া বাজারে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশের সঙ্গে সাইফুল্লাহ বারীর পক্ষের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন ধাওয়া দিয়ে সাইফুল্লাহ বারী ও তার বন্ধু সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় সাইফুল্লাহ বারীর গলায় ধারালো ও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই ঘটনায় আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিহতের বন্ধু মোবাশ্বের অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে এসে সাইফুল্লাহ বারীকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এদিকে অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ সম্পর্কে জানা গেছে, তারা বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং আপন দুই ভাই। মুকুল একসময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।