সর্বশেষ নিবন্ধ

ন্যাশনাল ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ন্যাশনাল ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত ঢাকা: ন্যাশনাল ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এনপিএ)-এর উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য ও জ্ঞানভিত্তিক সায়েন্টিফিক সেমিনার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল— “Career Opportunities and Professional Development of Pharmacists for Nation Building”। গত ১৪এপ্রিল, রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এনপিএ-এর সভাপতি জনাব সাইফুল আমিন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেনারেল সেক্রেটারি মো: জাহাংগীর আলম। আয়োজিত সেমিনারে দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যা অনুষ্ঠানটিকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রানবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমেরিটাস প্রফেসর ও ফার্মেসি কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন এনপিএ’র সভাপতি ও বায়োফার্মা লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ সাইফুল আমিন। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB)-এর ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সিদ্দিকুল ইসলাম।

সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফার্মাসিস্টদের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও সম্ভাবনা নিয়ে গভীর আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে, যেখানে দক্ষ ও যোগ্য ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ উৎপাদন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D), হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল সেবা, সবক্ষেত্রেই ফার্মাসিস্টরা দেশের স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।  

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে কুরআন বিতরণ কর্মসূচিতে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত কুরআন বিতরণ কার্যক্রমের অনুমোদনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। শিক্ষার্থীরা জানায়, গতবছর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে গতবছর ১২অক্টোবর উপাচার্যের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ৫০০কপি কুরআন বিতরণ করা হয়। সেসময় শিক্ষার্থীদের চাহিদার তুলনায় কুরআন বিতরণ করতে পারেনি। তাই এবছর সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি আল উম্মাহ সোসাইটির মাধ্যমে তারা ১০০০ কুরআন সংগ্রহ করে। এবং ০৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে একটি সীরাত সেমিনার ও কুরআন বিতরণ কার্যক্রমের অনুমতি চেয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করে। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে জানিয়ে দেয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোন ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে না। আয়োজক কমিটির পক্ষে কম্পিউটার সাইন্স ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী তাহমিদ জানায়, আবেদনের বিষয়ে জানতে আমরা প্রতি ডিপার্টমেন্ট থেকে একজন করে প্রতিনিধি রেজিস্ট্রার অফিসে যাই। কিন্তু ওনারা স্পট জানিয়ে দেয়, “ক্যাম্পাসে কোনো ধর্মীয় প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হবে না”।কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও প্রোগ্রাম করতে চাইবে এবং এতে বিশৃঙ্খলা হতে পারে।

ধ্রুপদী ঔপন্যাসিক ফয়েজ তৌহিদুল ইসলামের সাম্প্রতিক সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ ই এপ্রিল রোজ রবিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ধ্রুপদী ঔপন্যাসিক ফয়েজ তৌহিদুল ইসলামের সাম্প্রতিক সাহিত্যকর্ম নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে ছিলেন বিচারপতি মাহবুব উল ইসলাম, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কবি। এই সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, লেখক ও চিন্তাবিদ। এই ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জনাব মোস্তফা কামাল, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক। এই ছাড়া উপস্থিত ছিলো শিক্ষার্থী, লেখক, কবি সহ আরো অনেকে শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে আলোচক জনাব মোস্তফা কামাল বর্তমান সাহিত্যকে ধারণ করার আহ্বান করেছেন। তাছাড়া অনেক বক্তা বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে খুব সুন্দর ভাবে আলোচনা করেছেন। সর্বশেষ মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং বাকি কবিদের সম্পর্কে সুন্দর মন্তব্য করেছেন। তিনি স্বাধীনতা সম্পর্কে তিনি খুবই সুন্দর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। সকল আলোচকের বক্তব্য শেষে প্রশ্ন উত্তর পর্ব রাখা হয়। এরপর একটি ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় এই আলোচনা সভা।

সেচ ভবনে ফিলাটেলিক মেলা অনুষ্ঠিত!

এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন। ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ শুক্রবার   রাজধানীর সেচ ভবনে ঢাকা ফিলাটেলিক ক্লাবের ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ফিলাটেলিক মেলা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও আগত সংগ্রাহক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, ফিলাটেলি বা ডাকটিকিট সংগ্রহের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সংগ্রাহকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলার উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উদ্বোধনী পর্বে ফিলাটেলির ইতিহাস, গুরুত্ব এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর সম্ভাবনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় নতুন ও পুরোনো ডাকটিকিটের সমৃদ্ধ সংগ্রহ ছিল প্রধান আকর্ষণ। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের বিরল ডাকটিকিট সংগ্রাহকেরা প্রদর্শন করেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কাগুজে টাকা ও মুদ্রা, পুরোনো ও স্মারক ব্যাজ, অ্যানালগ ক্যামেরা, পদক, প্রাচীন মুদ্রা এবং ঐতিহাসিক পত্রিকার সংগ্রহ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। কিছু স্টলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ ডাকটিকিট ও স্মারক সামগ্রীর সংগ্রহও প্রদর্শিত হয়, যা দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ সৃষ্টি করে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা এসব সংগ্রহ ঘুরে দেখার পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয়েও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই নিজের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করতে বিরল ডাকটিকিট ও পুরোনো মুদ্রা কিনতে আগ্রহ দেখান। বিক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম ও আলোচনা মেলাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। রাজধানীর বাইরে থেকেও বহু সংগ্রাহক মেলায় অংশ নেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন সংগ্রাহকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যেখানে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন সংগ্রহ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়। বিদেশি সংগ্রাহকদের উপস্থিতিও মেলায় আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে। মেলায় অংশ নেওয়া একাধিক সংগ্রাহক জানান, ফিলাটেলি শুধু শখ নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডাকটিকিট ও মুদ্রার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়। তাই এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসচর্চায় আগ্রহী করতে ভূমিকা রাখতে পারে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের ফিলাটেলিক মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়। মেলা শেষে অংশগ্রহণকারী সংগ্রাহক ও দর্শনার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে আয়োজনের দাবি জানান। তাঁদের আশা, এমন উদ্যোগ দেশের সংগ্রহশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করবে।    

৮ এপ্রিল:  বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস “নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার”

  জাহিদুল হক শ্রাবণ কেউ ডাকেনি। তবুও এসেছিল বন্যার জল যখন হাঁটু ছাড়িয়ে কোমর, যখন রাস্তা নেই, আলো নেই, ভরসা নেই তখন দেখা গেছে একদল ছেলেমেয়ে। পিঠে ব্যাগ, হাতে টর্চ, বুকে খাকি পোশাক। কেউ বেতন দেয়নি, কেউ আদেশ করেনি। শুধু একটা বিশ্বাস ছিল ভেতরে “আমি পারি। আমাকেই যেতে হবে।”এরাই স্কাউট। ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস। এক গৌরবময় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ স্কাউটস গঠনের নির্দেশ দিয়ে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ যখন নিজেকে গড়ে তুলছিল, তখন এই কিশোর-তরুণরা হাতে তুলে নিয়েছিল দেশ গড়ার স্বপ্ন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ২৪৮তম সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ৮ এপ্রিল “বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস” হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বছর ষষ্ঠবারের মতো দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে এই দিবসটি। বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস ২০২৬-এর থিম “নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার” স্কাউট আন্দোলনের জনক লর্ড রবার্ট ব্যাডেন পাওয়েল বলেছিলেন, একজন স্কাউট কখনো তার যাত্রা শেষ করে না, শুধু পথ বদলায়। বাংলাদেশের স্কাউটরাও তাই। পাহাড় থেকে উপকূল, শহর থেকে গ্রাম যেখানে বিপদ, সেখানে স্কাউট। যেখানে অন্ধকার, সেখানে তাদের আলো। এই স্কাউটদের দল কেবল ক্যাম্পফায়ারের চারপাশে গান গায় না। এটি এক জীবনদর্শন, এক মানবিক আন্দোলন। দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়, সমাজে সচেতনতা গড়ে তোলে, পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে এবং দেশের জন্য নিজেকে নিবেদন করে। তাদের জীবনের মন্ত্র একটাই “সদা প্রস্তুত” আজ বাংলাদেশে ২২ লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্কাউট রয়েছে। এই সংখ্যাটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয় এটি একটি জাতির বিবেকের পরিমাপ। এই দিনে আমরা স্কাউট আন্দোলনে অবদান রাখা সকলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি, যাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠছে দায়িত্ববান, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক। ফ্লোর-ডি-লিস ফুলের তিনটি পাপড়ি। সেবা, সততা ও ভ্রাতৃত্ব। এই তিনটি মূল্যবোধ যদি আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে আর কোনো অন্ধকার থাকবে না। আসুন, এই স্কাউটস দিবসে আমরা শপথ নিই নিজেকে গড়ি, দেশকে ভালোবাসি। দেশের প্রতিটি কোণে যে স্কাউট নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছে তাদের প্রতি সালাম। তুমি এই দেশের আলো। ৮ এপ্রিলে তোমাকেই অভিবাদন। যে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে, যে নীরবে মানবতার পাশে দাঁড়ায়, যে নিজেকে গড়ে তোলে দেশের জন্য। লেখক: জাহিদুল হক অগ্নিবীণা রেলওয়ে মুক্ত স্কাউট গ্রুপ, বাংলাদেশ স্কাউটস আখাউড়া রেলওয়ে জেলা।

বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস ২০২৬: নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার

  এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে সুশৃঙ্খল, দায়িত্বশীল এবং মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্কাউটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতি বছর বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস উদযাপনের মাধ্যমে এই মহান আন্দোলনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং আদর্শ নতুন করে স্মরণ করা হয়। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে এক নতুন অঙ্গীকার “স্কাউটিং হোক সবার”। এই প্রতিপাদ্য কেবল একটি স্লোগান নয়; বরং এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের আহ্বান, যেখানে প্রত্যেক শিশু ও তরুণ স্কাউটিংয়ের সুযোগ পাবে। স্কাউটিং মূলত একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক আন্দোলন, যা শিশু ও তরুণদের নৈতিক শিক্ষা, নেতৃত্বের গুণাবলি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা শেখায়। বাংলাদেশে স্কাউটিং কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লাখো শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। স্কাউটদের মূলমন্ত্র “সদা প্রস্তুত” শুধু একটি বাক্য নয়, বরং এটি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রস্তুত থাকার একটি মানসিকতা গড়ে তোলে। ১৯৭২ সালে ০৮ই এপ্রিল “বাংলাদেশ বয় স্কাউট এসোসিয়েশন” গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে বিশ্ব স্কাউট সংস্থা ১০৪ তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তারপর থেকে “বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি” কার্যক্রম জোরদার করে। ১৯৭৮ সালে “বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি” নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় “বাংলাদেশ স্কাউটস”। ২০২৬ সালের স্কাউটস দিবসের প্রতিপাদ্য “নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার” আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্কাউটিং কেবল নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য নয়। এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সমাজের প্রতিটি স্তরের শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় স্কাউটিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই অঞ্চলের শিশুরাই প্রায়ই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। স্কাউটিং কার্যক্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ব্যবহারিক শিক্ষা। এখানে বইয়ের বাইরে গিয়ে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো হয়। ক্যাম্পিং, হাইকিং, কমিউনিটি সার্ভিস, প্রাথমিক চিকিৎসা, পরিবেশ সংরক্ষণ ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে একজন স্কাউট ধীরে ধীরে একজন দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়ায় তারা শিখে কিভাবে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হয়, কিভাবে নেতৃত্ব দিতে হয় এবং কিভাবে সংকট মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ০৮ ই এপ্রিল বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও স্থানীয় স্কাউট গ্রুপ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে র‍্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম। এসব কর্মসূচি শুধু স্কাউটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি করে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে তরুণদের জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটে ব্যস্ত থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে স্কাউটিং একটি ইতিবাচক বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। স্কাউটিং তরুণদের বাস্তব জীবনের সাথে সংযুক্ত করে, প্রকৃতির কাছে নিয়ে যায় এবং তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। “স্কাউটিং হোক সবার” এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিদ্যালয় পর্যায়ে স্কাউটিং কার্যক্রম বাধ্যতামূলক বা আরও বিস্তৃত করা যেতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের স্কাউটিংয়ে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা উচিত। গণমাধ্যমও এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া, স্কাউটিংয়ে নারী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কাউটিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সমাজেৃর সকল শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে এবং একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস ২০২৬ আমাদের সামনে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি কেবল একটি দিবস উদযাপন নয়, বরং একটি প্রতিশ্রুতি একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি। তরুণদের শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে স্কাউটিং একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, “নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার” এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা একটি সচেতন, দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হব। স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে তরুণরা শুধু নিজেদের নয়, বরং সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এগিয়ে আসি এবং স্কাউটিংকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তুলি। লেখক: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন আমরা স্কাউট গ্রুপ, ঢাকা বাংলাদেশ স্কাউটস

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়াও

  এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের স্বাস্থ্য একে অপরের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত। কোনো ব্যক্তি, সমাজ বা দেশ একা নয় যখন বিষয়টি সুস্থতার। “স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়াও” এই প্রতিপাদ্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, দায়িত্ব নেওয়ার এবং বৈজ্ঞানিক সত্যের উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানায়। গত কয়েক দশকে বিজ্ঞান স্বাস্থ্যসেবায় অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। টিকা অসংখ্য প্রাণঘাতী রোগ নিয়ন্ত্রণ করেছে, আধুনিক পরীক্ষাপদ্ধতি দ্রুত রোগ নির্ণয় সম্ভব করেছে, আর উন্নত চিকিৎসা মানুষের আয়ু বাড়িয়েছে। তবুও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নতুন সংক্রামক রোগের উদ্ভব, অসংক্রামক রোগের বিস্তার, এবং অনেক মানুষের জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এখনও অনেক পথ বাকি। এই প্রেক্ষাপটে “একসাথে” থাকার গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাস্থ্য শুধু ডাক্তার বা সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। সমাজকে সচেতন হতে হবে, মানুষকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, এবং সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব সবার জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, আর স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে সেবা প্রদান করা। বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়ানো এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। তথ্যের এই যুগে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আমাদের উচিত প্রমাণভিত্তিক তথ্যের উপর বিশ্বাস রাখা এবং বিজ্ঞানকে সমর্থন করা। বিজ্ঞানই আমাদের পথ দেখায়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে এবং সংকটের সময়ে সমাধান দেয়। কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের শিখিয়েছে যে বিশ্ব কতটা আন্তঃসংযুক্ত। বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত টিকা তৈরি হলেও, সবার কাছে সমানভাবে তা পৌঁছায়নি। এই অভিজ্ঞতা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে এবং বৈষম্য দূর করতে শিখিয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা এখন সময়ের দাবি। “স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে” মানে হলো কাউকে পিছিয়ে না রাখা। দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, শরণার্থী এরা প্রায়ই স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু মানবিক নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব। স্বাস্থ্যসেবা সবার মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত। প্রযুক্তিও স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। টেলিমেডিসিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে আরও দ্রুত ও সহজভাবে। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে ন্যায়সঙ্গত ও সবার জন্য উপকারী। শিক্ষা এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষ যখন রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যবিধি এবং চিকিৎসার গুরুত্ব বোঝে, তখন তারা আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সচেতনতা বাড়ানোই একটি সুস্থ সমাজ গড়ার মূল চাবিকাঠি। এই বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে আমাদের উচিত অর্জনগুলোকে মূল্যায়ন করা এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন অঙ্গীকার করা। একটি সুস্থ পৃথিবী গড়তে হলে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে এবং বিজ্ঞানের উপর আস্থা রাখতে হবে। “স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়াও” শুধু একটি প্রতিপাদ্য নয় এটি একটি প্রতিজ্ঞা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাস্থ্য একটি সম্মিলিত যাত্রা, যেখানে সহযোগিতা, জ্ঞান এবং মানবিকতা সবচেয়ে বড় শক্তি। আসুন, আমরা সবাই একসাথে এগিয়ে যাই স্বাস্থ্যের জন্য, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়াও। লেখক: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন ব্যাচ: ইউএমসি ০৭ সেশন: ২০২০-২১ ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ রেফারেন্সঃ ১) https://banglakathan.com/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8-%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8/ ২) https://www.who.int/news-room/events/detail/2026/04/07/default-calendar/world-health-day-2026-together-for-health-stand-with-science

বিবি সাওদা আটক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

ভোলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব এ নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে ভোলা পৌরসভার জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

ঘটনাটি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি আবু সাদিক সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গ্রেপ্তার “ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি”। তিনি অভিযোগ করেন, তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের মাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নেওয়া অমানবিক এবং ভিন্নমত দমনের ইঙ্গিত বহন করে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির মন্তব্য করেন, একটি লেখার কারণেই ক্ষমতাসীনদের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের শাসনের পথ অনুসরণ করছে কি না, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। তিনি গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দেশের যেকোনো নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং এ ধরনের গ্রেপ্তার সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করে। তিনি বিবি সাওদার মুক্তি দাবি করেন এবং গ্রেপ্তারের পেছনের নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার-ও তার পোস্টে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

পুলিশের বক্তব্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার উপপরিদর্শক জুয়েল হোসেন খানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডি থেকে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে এবং কারিগরি সমস্যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বিশ্লেষণ সম্ভব হয়নি। তাকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া ঘটনার পর দলটির পক্ষ থেকে নিন্দা ও উদ্বেগ জানানো হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এক বিবৃতিতে বলেন, রাতের বেলা বাসা থেকে একজন নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করা অগ্রহণযোগ্য। তিনি অবিলম্বে বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

কবির পাশে সমাহিত কবিতা

  আ.ন.ম উসামা বিন হাশেম
আমি চির-বিদ্রোহী-বীর- আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এই কালজয়ী পঙক্তিগুলো যখন আমরা পড়ি, তখন আমাদের চোখের সামনে এক অদম্য তেজস্বী তরুণের অবয়ব ফুটে ওঠে। শত বছর আগে নজরুল যে ‘উন্নত শির’-এর কথা বলে গেছেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে সেই শির বা মস্তকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ছিলেন শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই আমাদের সামনে হাজির হননি বরং তিনি হাজির ছিলেন যুগের এক প্রতিনিধি, এক দ্রোহের নাম হিসেবে। নজরুল জীবদ্দশায় কলম ধরেছিলেন ব্রিটিশ শৃঙ্খলে পরাধীন এক জাতির মুক্তির জন্য, কবির সেই লাইনগুলোকে ধারণ করে ওসমান হাদি দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং কালচারাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে।

“আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির” এই পঙক্তির জীবন্তরূপ ওসমান হাদি দেখিয়ে গিয়েছেন।

জুলাই বিপ্লবের পর যখন সুবিধাবাদীরা ক্ষমতার রস আস্বাদন করতে করতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছিল তখন সেই সুবিধাবাদীদের ভিড়ের বাহিরে তিনি একাই দাঁড়িয়ে বেছে নিয়েছিলেন বিপদের রাস্তা। যেখানে আপস ছিল সহজ, সেখানে তিনি প্রতিবাদকে বেছে নিয়েছিলেন। ওসমান হাদি প্রতিকূলে দাড়িয়েই উচ্চারণ করেন-

“জান দিব, কিন্তু জুলাই দেব না”।

নজরুল ব্রিটিশ উপনিবেশের পরাধীন মুসলিমজাতির শৃঙ্খল ভাঙতে কলম ধরেছিলেন, আর ওসমান হাদি স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর ফ্যাসিবাদকে উপড়ে ফেলতে রাজপথ বেছে নিয়েছিলেন। যেন নজরুলেরই এক জীবন্তরূপ। হাদির রাজনীতিতে ছিল তাত্ত্বিক প্রজ্ঞা আর মাঠের লড়াইয়ের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। জীবনের অর্জিত জ্ঞানকে তিনি ড্রয়িংরুমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মাঝে। ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মাধ্যমে তিনি যে জাগরণ তৈরি করেছিলেন, তা ছিল মূলত নজরুলের সেই ‘চির-বিদ্রোহী’ সত্তার আমাদের সময়ের সংস্করণ।

ওসমান হাদির রাজনৈতিক দর্শনের মূলে ছিল ইনসাফ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব। তিনি কেবল রাজপথের কর্মী ছিলেন না, বরং তাত্ত্বিকভাবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রখর। তিনি তার এই প্রজ্ঞার প্রখরতা ও দূরদর্শী দৃষ্টি থেকে বুঝতে পেরেছিলেন ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতা বা তাৎক্ষণিক আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পরাজিত করা যাবে না বরং এর জন্য লাগবে আদর্শিক ও কালচারাল বিজয়। এই ভাবনা থেকেই গড়ে তুলেছিলেন “ইনক্বিলাব কালচারাল সেন্টার”। যার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিরোধের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের জন্য শাহবাগের কালচারাল ফ্যাসিজম এর বিরুদ্ধে একটি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্রন্ট তৈরি করা,যা দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক হেজিমনি বা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করবে। এছাড়াও সমাজের বৃহৎ সামাজিক মনস্তত্ত্বে ভারতীয় আধিপত্যের যে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে আছে সেটাকে দূর করবে। ওসমান হাদি বিশ্বাস করতেন, “জুলাই বিপ্লব” আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ আমানত। এই বিপ্লব যদি ব্যার্থ হয় তাহলে বাংলাদেশের ভাগ্য দীর্ঘমেয়াদী অন্ধকারের কবলে পড়বে। তাঁর একাধিক বক্তব্যেও তিনি এই কথা বারবার উচ্চারণ করতেন এবং সত্যিই এই আমানত রক্ষার জন্য ওসমান জীবনকে বিলিয়ে দিতে পিছপা হননি। আমাদের দেশে রাজনীতিকদের কথার খই ফোটাতে কার্পণ্য করেন না কোনদিনও, কিন্তু যখন আদর্শের জন্য নিজের জীবন বাজী রাখার কথা আসে তখন হ্যারিকেন দিয়েও তাদের খুজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ওসমান হাদি তো ছিল সত্যিকারের বীর। ওসমান হাদি সেই বিরল মানুষদের একজন যে নিজের আদর্শ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের লড়াই এর জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে যখন গুলিবিদ্ধ হলেন, তখন ওসমান হাদী কেবল একজন এমপি প্রার্থী হিসেবে ভোট চাইছিলেন না; তিনি চাইছিলেন বিপ্লবের ঝাণ্ডাকে সমুন্নত রাখতে। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার নিথর দেহ যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল, তখন বুঝা গেলো—ওসমান হাদি যা মুখে বলতেন, তা লালন করতেন হৃদয়ে। তিনি জান দিয়েছেন, কিন্তু জুলাইকে আপসের টেবিলে বিকিয়ে দেননি। দ্রোহের কবি কাজী নজরুলকে ধারণ করা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি তার কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে নজরুলের সেই দ্রোহের চেতনাকে নিজের অস্তিত্বে মিশিয়ে নিয়েছিলেন। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জীবন্ত রূপ হিসেবে তিনি আজ শায়িত আছেন তারই আদর্শের রাহবার জাতির দ্রোহের প্রতীক কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি ঠিক পার্শ্বেই। আমাদের শহীদ ওসমানকে স্মরণ করতে তাই আমরা বলতে পারি, কবির পাশে সমাহিত কবির “শ্রেষ্ঠ কবিতা”

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ।

উত্তরায় আইইউবিএটি শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিএটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ৪৪ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে তুরাগ থানার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। তুরাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই ইখলাস মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহত সাবিত মাহমুদ শাওনের সহপাঠী মোহাম্মদ কাজল মিয়া বলেন, সাবিত কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তিনি কিছু অস্বাভাবিক পোস্ট দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সহপাঠীদের মধ্যে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তার মৃত্যুতে আইইউবিএটির শিক্ষার্থীরা শোকাহত। প্রসঙ্গত, মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সাবিত মাহমুদ শাওন দুটি স্ট্যাটাস দেন। একটিতে তিনি লেখেন, “At the end, you got to fight your own battles, and accept the defeat. 27/03/2026 (Killed my soul).” অন্য পোস্টে তিনি অপরাধবোধ ও মানসিক অস্থিরতার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন। তবে এসব পোস্টের সঙ্গে তার মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।