সর্বশেষ নিবন্ধ

মানারাত ইউনিভার্সিটিতে আইন ও ফার্মেসি বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

  জমকালো আয়োজনে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন ও ফার্মেসি বিভাগের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অন্যতম সদস্য প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশবিজ্ঞানী ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের শুধু ভালো ছাত্র হলেই হবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। ভালো ছাত্র হয়েও যদি দেশ ও জাতির কোনো উপকারে আসতে না পারো, তাহলে সেই ভালো ছাত্র হওয়ার কোনো মূল্য নেই।” তিনি বলেন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একদিন শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে স্থান করে নেবে। তিনি বলেন, “জাতিকে যোগ্য নেতৃত্ব উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে আমি আশাবাদী। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, “‘A Centre of Academic and Moral Excellence’ স্লোগানকে ধারণ করে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি জাতিকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের যে অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” রেজিস্ট্রার এ. এইচ. এম. আবু সাঈদের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ট্রেজারার মো. মনিরুল ইসলাম, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মনিরা আহসান এবং আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল্লাহ হিল গণি। ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

গোবিপ্রবিতে জুলাই শহীদ-আহতদের জন্য ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি মো:তাছিন জায়েফ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ছাত্রদলের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘায়ু কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। এসময় দোয়া মাহফিলে গোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ, সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলের বিষয়ে গোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠায় গোবিপ্রবি ছাত্রদল অতীতের মতো ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। তাদের আদর্শ ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সত্য ইতিহাস সংরক্ষণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বইপিডিয়ার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

  ঢাকা, ২৫ জুলাই ২০২৬: বাংলা ভাষায় বইভিত্তিক মুক্ত জ্ঞান সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত অনলাইন তথ্যভান্ডার বইপিডিয়া সফলভাবে এক বছর পূর্ণ করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকল্পটির সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল সহযোগী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা মো. জনি হোসেন। মো. জনি হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ১৯ জুন তিনি মিরাহেজে বইপিডিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করেন। পরদিন, ২০ জুন, মিরাহেজ কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির অনুমোদন প্রদান করলে তিনি এককভাবে বইপিডিয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্প্রসারিত হতে থাকে। তিনি জানান, রফিকুর রহমান প্রিয়ম বইপিডিয়ার লক্ষ্য ও সম্ভাবনা উপলব্ধি করে প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর বইপিডিয়ার জন্য নিজস্ব ডোমেইন ক্রয় করে দেওয়া, যা প্রকল্পটির বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। বইপিডিয়ার প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাংলা উইকিউক্তির প্রশাসক আবরারুল হাসান। তিনি মিডিয়াউইকি সফলভাবে ইনস্টল ও কনফিগার করে প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। এছাড়া উইকিপিডিয়ান অরিজিৎ কিস্কু নিবন্ধ তৈরি ও বিষয়বস্তু উন্নয়নের মাধ্যমে বইপিডিয়াকে সমৃদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আব্দুল্লাহ আল আরাফ ও মোহাম্মদ ওমর সানিও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদান করেন। ভিকিটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ হোসেন তালুকদারও বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে প্রকল্পটির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিষ্ঠাতা মো. জনি হোসেন বলেন, “এক বছরের এই পথচলায় বইপিডিয়া শুধু একটি ওয়েবসাইট হিসেবে নয়, বরং বাংলা ভাষায় বইভিত্তিক মুক্ত জ্ঞান সংরক্ষণ ও সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি সম্মিলিত উদ্যোগ হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করছি।” বাংলা ভাষায় বইভিত্তিক মুক্ত জ্ঞান সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার হিসেবে বইপিডিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়লো খেলাফত মজলিস

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-সহ ১১ দলীয় জোট ত্যাগ করেছে খেলাফত মজলিস। আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় দলটি।

খেলাফত মজলিশ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মজলিসে শূরা অধিবেশনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, ১১ দলীয় ঐক্য ছিল মূলত নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় এ ঐক্যের কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে যায়। তবুও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১১ দলীয় কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেয়। এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দলটি জামায়াতের সঙ্গে জোট বেধে জাতীয় নির্বাচনে একটি আসনে বিজয়ী লাভ করে। সিলেটের কানাইঘাট-জকিগঞ্জ আসনে দলের প্রার্থী বিজয় লাভ করে।

দলটি আরও জানায়, ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস-প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সংসদে খেলাফত মজলিসের এমপি বিরোধী দলীয় ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবেন।

এর আগে গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় যেন দল ও নেতাদের নাম ব্যবহার করা না হয়।

সম্প্রতি কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা তৈরি হয়।

ইতিমধ্যে খেলাফত আন্দোলন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যজোট ত্যাগ করেছে। এবার খেলাফত মজলিসও একই পথে হাঁটল। তবে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো জোটে রয়েছে।

জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্বের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব-এর উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থানে গৌরবের পথচলায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান স্মরণে “আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বর্ণপদক প্রদান–২০২৬” শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম জায়েদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির শহীদ সাজ্জাদ হোসাইনের পিতা আলমগীর হোসেনের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুই ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ভিত্তিতে এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ক্যাটাগরি এ-তে ৬ষ্ঠ সেমিস্টার পর্যন্ত সিজিপিএ ০৪ অর্জনকারীদের মাঝে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। গোল্ড মেডেল এওয়ার্ড প্রাপ্ত তিনজন শিক্ষার্থী যথাক্রমে মোঃ আবির হোসেন সিজান, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, হাদিউজ্জামান রিফাত, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, মোঃ আশরাফুল আকন, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি। এছাড়াও ক্যাটাগরি বি-তে সিজিপিএ ৩.৭০ থেকে ৩.৯৯ প্রাপ্ত প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমীর মুহাঃ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে বিভিন্ন গণআন্দোলন ও সংকটময় সময়ে শিক্ষার্থীরা বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানেও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাহস, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানান। সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, জাতির গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকে। জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের সাহস, দেশপ্রেম ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে থাকবে। আমরা জুলাই বিপ্লবের সময়ে আমাদের সব জনশক্তিকে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার নির্দেশনা দিয়েছিলাম। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা জুলাই বিপ্লবে আবাবিল পাখির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলো। ক্রেডিট নেওয়ার চিন্তা তখন কেউ করেনি, সবার মাথায় চিন্তা ছিল ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে। তিনি শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ইতিহাসের সঠিক বয়ান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকার কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা উল্টো চিন্তা বাদ দিয়ে ভালো হয়ে যান। শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা করতে শিখুন। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, জুলাই আমাদের নিকট প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেছিলো। কবি নজরুলের সাহিত্য আমাদেরকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আমরা ফ্যাসিবাদের শেখানো বয়ান কালোব্যাজ ধারণ না করে অনলাইনে প্রোফাইল পিকচার লাল করে ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখিয়েছি। জুলাই বিপ্লবের সময়ে রাজপথ কে আমরা জায়নামাজ বানিয়েছি। জুলাই আমাদের আন্দোলনের ভাষাকে পরিবর্তন করে দিয়েছি। সেসময়ে জেনজিরা কাউকে ছেড়ে কথা বলেনি। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অবদান পুরো জাতির নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে আন্দোলনকে বেগবান করতে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ফিনিক্স পাখির ভূমিকা পালন করে।   শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আহত যোদ্ধাগণ, বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ড. আকরাম উদ্দিন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ড. তাজওয়ার। জুলাই বিপ্লবের আহত যোদ্ধা উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বি। শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সেলিম তালুকদারের পিতা সুলতান তালুকদার। অরাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে পুসাবের আব্দুল্লাহ মাহফুজ জাকারিয়া, পুনাবের তানজীম উদ্দীন, পুআবের মইনুদ্দীন সুমন, মুনার মাইনুদ্দীন, ফিনল্যান্ড ইসলামিক সোসাইটির সেক্রেটারি সালাউদ্দিন, সমন্বয়কদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মুনিম মুবাশ্বির, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সাদিক আল আরমান। রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি মুহিব্বুল্লাহ আল হোসাইনী, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পশ্চিমের সভাপতি শান্ত তালুকদার, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা নাঈম আবেদীন, জাতীয় ছাত্র সমাজের আল সাইমুম, জাতীয় ছাত্রশক্তি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহবায়ক নুর আলম। শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দের হাতে শহীদদের স্মৃতি সংবলিত স্মারক তুলে দেওয়া হয়। জুলাই বিপ্লবে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বিপ্লবী শিক্ষার্থীদের গৌরবগাঁথা অবদান নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো GreenVerse 1.0: Together for a Sustainable Tomorrow”

  পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে উত্তরা ইউনিভার্সিটি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড এসডিজি ক্লাব (UUESDGC) আয়োজিত “GreenVerse 1.0: Together for a Sustainable Tomorrow” সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় GreenVerse 1.0 Quiz Competition এবং 30-Second Green Message Challenge। পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বিষয়ক প্রশ্ন নিয়ে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় উত্তরা ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ১৮ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ৩০টি বহুনির্বাচনী এবং ২টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। অন্যদিকে, 30-Second Green Message Challenge-এ শিক্ষার্থীরা ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও বা বার্তার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ, বৃক্ষরোপণ, টেকসই জীবনধারা এবং জলবায়ু সচেতনতা নিয়ে নিজেদের সৃজনশীল বার্তা উপস্থাপন করেন। এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব চিন্তাভাবনা বিকাশ এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২১ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে GreenVerse 1.0-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতা এবং 30-Second Green Message Challenge-এর বিজয়ীদের হাতে বই, সনদপত্র, বৃক্ষচারা এবং সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ক্লাব প্রেসিডেন্ট সাইদুল ইসলাম ইমন বলেন, GreenVerse 1.0-এর মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, টেকসই জীবনধারার চর্চা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা তৈরি করা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ইতিবাচক সাড়া ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ আয়োজনের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ক্লাব উপদেষ্টা নাহিদা ইসলাম বলেন, “পরিবেশ রক্ষার প্রথম ধাপ সচেতনতা, আর সেই সচেতনতাকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। GreenVerse-এর মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা নিজেদের জীবনধারায় টেকসই অভ্যাস গড়ে তুলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।”

ডুয়েটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রোবোটিক’স ফেস্ট – ২০২৬

  ডুয়েট প্রতিনিধি, গাজীপুর। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও রোবোটিক্স চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রোবোটিক’স ফেস্ট ২০২৬। ডুয়েট রোবোটিক্স ক্লাবের আয়োজনে আগামী ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে ক্লাবটির বার্ষিক এই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন উৎসব। ডুয়েটের শিক্ষার্থীদের রোবোটিক্স, প্রকৌশল, প্রোগ্রামিং এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশ ও প্রদর্শনের লক্ষ্যে আয়োজিত এ উৎসবে থাকছে পাঁচটি প্রতিযোগিতা। এগুলো হলো রোবট ফুটবল, লাইন ফলোয়ার রোবট, রোবো অলিম্পিয়াড, রোবো রেস এবং আইডিয়া কুয়েস্ট। উৎসবের লাইন ফলোয়ার রোবট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন ডুয়েটের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। রোবট ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ডিআরসি সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত। আইডিয়া কুয়েস্টে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এককভাবে অথবা এক থেকে তিন সদস্যের দলে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া রোবো রেস প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং রোবো অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে পারবেন ২০২৫ ও ২০২৬ সেশনের ডিআরসি সদস্যরা। আয়োজকদের মতে, প্রতিযোগিতাগুলো শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক উদ্ভাবনী চিন্তা উপস্থাপনের সুযোগ করে দেবে। বিশেষ করে আইডিয়া কুয়েস্টে অংশগ্রহণকারীরা প্রকৌশল বা প্রযুক্তিভিত্তিক কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধানমূলক ধারণা পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা, কার্যকর প্রোটোটাইপ অথবা উভয়ের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারবেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। বিজয়ীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার অর্থ, চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ ট্রফি, অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের জন্য সনদ এবং নির্বাচিতদের জন্য বিশেষ ডিআরসি ফেস্ট ২০২৬ টি-শার্ট। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ডিআরসি ফেস্ট ২০২৬ ডুয়েটে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা ও রোবোটিক্সে আগ্রহ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতের দক্ষ প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক তৈরিতেও উৎসবটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি!

  এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ছিল আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে এক রোমাঞ্চকর লড়াই। ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দর্শকদের উৎকণ্ঠায় রেখেছিল। তবে ম্যাচের রেফারিদের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আবারও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। এটি ছিল আর্জেন্টিনার সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল, অর্থাৎ অতীতের কিছু ব্যর্থতা সত্ত্বেও তারা আবারও ফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে তারা তিনবার এই মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জিতেছে। ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর অনেক দর্শক এই ম্যাচটির সঙ্গে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা ও জার্মানির বিশ্বকাপ ফাইনালের তুলনা করতে শুরু করেন। সত্যিই, দুটি ম্যাচের মধ্যে এতটাই মিল ছিল যে অনেকের কাছেই তা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়েছে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও জার্মানি মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচটিও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গোলশূন্য ও অপেক্ষাকৃত ধীরগতির ছিল। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানি জয়সূচক গোল করে শিরোপা জিতে নেয়। তেমনি, ২০২৬ সালের ফাইনালেও রেফারিদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তবে ফিফা বরাবরের মতোই রেফারিদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জানায় যে তারা সম্পূর্ণ নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও ২০২৬ সালের ফাইনালকে ঘিরে বিতর্ক আরও বেশি ছিল, তবুও অনেক সমর্থকের মতে কিছু সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গেছে, আবার অন্যদের মতে এই ধরনের বিতর্কই ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। এ ধরনের হতাশাজনক ফলাফলের পর যেমনটি প্রায়ই দেখা যায়, ফিফা ম্যাচ এবং বিশেষ করে ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার জবাব দেয়। সংস্থাটি একাধিকবার জানায় যে কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের কোনো ভুল ছিল না। তবুও অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী ভিন্নমত পোষণ করেন, যা প্রমাণ করে যে ফুটবল সবসময়ই নাটকীয়তা ও বিতর্কে পরিপূর্ণ একটি খেলা। প্রকৃতপক্ষে, রেফারিদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, ২০২৬ সালের ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হতাশা ছিল অনেক বেশি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের ভবিষ্যৎ। সর্বপ্রথম, লিওনেল মেসির জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচটি দেখা ছিল অত্যন্ত আবেগঘন, কারণ এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন। তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং মাঠে তাঁর উপস্থিতি সবসময়ই ছিল অসাধারণ। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাঁর দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোভাব ছিল অনুকরণীয়, যা তাঁর সতীর্থ ও সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করেছে। পাশাপাশি, তিনি তাঁর দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে সমস্যা হলো, তাঁর মতো একজন খেলোয়াড়ের উপযুক্ত বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না। যদিও আর্জেন্টিনায় অনেক তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে, তবুও তারা এখনো দল হিসেবে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য প্রদর্শন করতে পারেনি। তাই ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে আগের মতো সাফল্য অর্জন করতে হলে আরও বেশি ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হবে। সবশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ইতিহাসে এই ম্যাচটির মূল্যায়ন কতটা পরিবর্তন করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ফুটবল সবসময়ই বিস্ময়, নাটকীয়তা এবং উত্তেজনায় ভরপুর একটি খেলা, যা দর্শকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুগ্ধ করে রাখে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই ফাইনাল ম্যাচ সম্পর্কে মানুষের মতামত যাই হোক না কেন, এটি সবসময়ই বিশেষ হয়ে থাকবে, কারণ এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  

ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা না জানানোর আহ্বান গোবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপাচার্যের

  গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা না জানানোর আহ্বান করেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত। রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের সময় নবনিযুক্ত উপাচার্যকে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি তা গ্রহণ করতে বিনয়ের সঙ্গে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, “আমি এখন ফুলেল শুভেচ্ছা নিতে আগ্রহী নই। আগামী চার বছর আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পর, আজ যেভাবে আপনারা আমাকে গেট থেকে নিয়ে এসেছেন, ঠিক সেভাবেই ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে এবং সবাইকে আবেগাপ্লুত করে বিদায় জানালে সেটিই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, এজন্য আমি আপনাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। তবে আমি ফুলেল শুভেচ্ছা সেদিনই গ্রহণ করব, যেদিন আমি আমার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে সক্ষম হব।”

আরআইটির আয়োজনে জুলাই বিপ্লব স্মরণে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

  জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দ্রুত বিচার, শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে “দ্বিতীয় জুলাই বিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-২, ২০২৬)।“ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল “জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর লিগ্যাসি: জবাবদিহি, সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ”। দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক ও ছাত্র প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থট (আরআইটি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবে শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম বলেন, শহীদ পরিবারগুলোর প্রধান দাবি ন্যায়বিচার। বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে তিনি দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার, শহীদদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার আলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই বিপ্লবের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে হলে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, জনগণের অধিকার এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি দেশের মানুষের সম্মিলিত উত্তরাধিকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের শ্রম ও সক্ষমতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাই হতাশাবাদী প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে জনগণের শক্তির ওপর আস্থা রেখে জাতীয় পুনর্গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। সম্মেলনে অনলাইনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের সিরিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি হুমা খান এবং অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ। হুমা খান বলেন, জুলাই বিপ্লব দেখিয়েছে যে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে অস্ত্র ও সহিংসতা ছাড়াই পরিবর্তন আনতে পারে; তবে সমতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি এবং কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। জন ড্যানিলোভিচ বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদ, আহত ও তাঁদের পরিবারের জন্য জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিপ্লবের ইতিহাস ও শিক্ষা সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন আর কখনো ফিরে না আসে। বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পক্ষে এবং জুলাই বিপ্লবে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হুমা খানকে ‘ফ্রেন্ডস অব জুলাই রেভল্যুশন’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম এবং ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। তাঁরা আইনের শাসন, বিচার ও জবাবদিহি, শিক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাইদুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, কাতারের হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. উসামা আল-আযমী এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাকিয়ান ফখরুল। মূল প্রবন্ধগুলোতে জুলাই বিপ্লবকে কেবল তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, নাগরিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর প্রক্রিয়া হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আরআইটি’র চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, জুলাই নিয়ে আবেগ ও রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ ও বহুমাত্রিক গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার ফলাফলকে একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জননীতি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ছাত্র প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ডাকসুর সহসভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, জুলাইকে শুধু কয়েক সপ্তাহের একটি আন্দোলন হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য বোঝা যাবে না। জুলাই ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং দীর্ঘদিনের জাতীয় ক্ষত নিরাময়ের একটি নতুন যাত্রার সূচনা। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ও দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক জুলাই কন্ফারেন্সের সহ-আয়োজক মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ বলেন, জুলাই আমাদের প্রজন্মের সেরা অর্জন । পতিত ফ্যাসিস্টগোষ্ঠী মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে জুলাইকে ডিফেইম করার জন্য কিন্তু আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়াই চালাবো জুলাই রক্ষা করার জন্য। এছাড়াও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহিন বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জুলাইয়ের ইতিহাস ও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। দিনব্যাপী সম্মেলনের ১৫টি প্যানেলে নির্বাচিত ৮০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাপত্রগুলোতে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক ও সামাজিক পটভূমি, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, শহীদ ও আহতদের অভিজ্ঞতা, নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ, গণমাধ্যম, আইন ও বিচার, সংবিধান ও প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয়। প্যানেল আলোচনায় জুলাই বিপ্লবের একটি সমন্বিত ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্কাইভ নির্মাণ, শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি, আন্দোলনকারী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংরক্ষণ এবং বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন, নির্বাচনব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুরক্ষা কাঠামোর কার্যকর সংস্কারের প্রস্তাব উঠে আসে। আরআইটির নির্বাহী পরিচালক ড. একরাম উদ্দীনের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। তিনি দেশি-বিদেশি অতিথি, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আয়োজক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সম্মেলন থেকে জুলাই বিপ্লবকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম হিসেবে সংরক্ষণ, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ নির্মাণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।