মেট্রোরেলের ছাদে দুই ব্যক্তি উঠে পড়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (জনসংযোগ) আহসান...
আল–জাজিরা
লিবিয়ার সেনাপ্রধান মুহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আরও চারজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এবং তিনজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।...
অনলাইন ডেস্ক:
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের নওগাম পুলিশ স্টেশনে জব্দ করে রাখা বিস্ফোরকের স্তূপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে নয়জন নিহত এবং ২৯ জন...
ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্বখ্যাত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। শ্রীলঙ্কার পর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে স্টারলিংক তাদের সেবা চালু...
পরিবর্তনের শুরু হোক এ মাস থেকে
শাহরুখ হোসাইন তন্ময়
পরিবর্তনশীল জীব। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়। হাদিসে...
সাদী মোহাম্মদ সাদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টনের প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বিএনপি। এই প্রক্রিয়ার...
বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জড়িত বলে জানিয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ...
অনলাইন ডেস্ক:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র...
ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে দেশে বা...
রেজাউল করিম
বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডার্স (আরএসএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে,...
নিজস্ব প্রতিবেদক।
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে আর না দেখতে হয় ভবিষ্যতে, সেজন্য যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি সেই পদক্ষেপগুলো আমরা নেবো।
আজ বুধবার সকালে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের রিপোর্ট আমাদের সামনে আসছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই রিপোর্ট বাস্তবায়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমি কয়েকদিন আগেই এই রিপোর্টটা পুরো না দেখেই কিছু কথা বলেছি, যেগুলো আজ সংশোধন করতে চাই। আমরা নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন করবো না। যেহেতু জাতীয় একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন দক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত হয়েছে , তাদের রিপোর্টে আমি এক নজরে যা দেখেছি তাতে যে সমস্ত সুপারিশমালা এসেছে তা প্রায় ৭০টি।
তিনি আরও বলেন, বিচারাধীন যে মামলাগুলো আছে, কিছু আপিল পর্যন্ত, কিছু আপিলেড ডিভিশনে হয়তো আছে। জুডিশিয়াল প্রসেসটা সমাপ্ত করা হবে আর অন্যান্য যে রিকমেন্ডেশনস আছে এগুলো আমরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবো।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ছিল পিলখানার ঘটনা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আন্ডারমাইন্ড করা বা দুর্বল করা এটা একটা লক্ষ্য ছিল। সেটা তাদেরই থাকতে পারে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না অথবা একটা দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে এ দেশকে দেখতে চায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে যারাই জীবন দিয়েছেন তারা চিরস্মরণীয় ও চিরভাস্বর। পিলখানার নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল তা খুঁজে বের করার জন্য তৎকালীন সরকার কমিটি করেছিল। শেষ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
সুত্রঃ বাসস।
দাওয়াহ সোসাইটি অব ইউএমসি ও মেডিসিন ক্লাব, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ইউনিট আয়োজনে রমজানের গাইডলাইন ও হাফেজে কুরআন রিসেপশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত
এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন,ইউএমসি প্রতিনিধি :
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন ডাক্তারদের অংশগ্রহণে এক আধ্যাত্মিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দাওয়াহ সোসাইটি অব ইউএমসি ও মেডিসিন ক্লাব, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ইউনিট।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দাওয়াহ সোসাইটি অব ইউএমসি-এর সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ ডা. মাহমুদুল বাশার। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রমজানের তাৎপর্য, আত্মশুদ্ধি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং একজন মুসলিম চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
ইফতারের পূর্বমুহূর্তে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ইফতারের পর ইউএমসি শিক্ষার্থীরা হামদ-নাত পরিবেশন করেন, যা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে হাফেজ ডা. মাহমুদুল বাশার এবং ইউএমসি-এর দুইজন হাফেজ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
পরিবর্তনের শুরু হোক এ মাস থেকে শাহরুখ হোসাইন তন্ময়
পরিবর্তনশীল জীব। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়। হাদিসে এসেছে, অন্তরসমূহ পরম করুণাময়ের (আল্লাহ) দুই আঙুলের মাঝে অবস্থিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন (জামি আত-তিরমিযি-২১৪০)। এজন্য রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিমাণে এ দোয়া করতেন-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো।
ঋতুর পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া ও পরিবেশের পরিবর্তন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কখনো শীত, কখনো গ্রীষ্ম আসে। শীত-গ্রীষ্মের পাশাপাশি যেমন বসন্ত আসে, মানুষের নেক আমলেরও তেমনি বসন্ত আসে। সেটি হলো মাহে রমাদান (বাংলায় আমরা বলি রমজান মাস), যা সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। এ মাসেই আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর কুরআন নাযিল করেন। আল্লাহ বলেন,
شَہۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ ہُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡہُدٰی وَ الۡفُرۡقَانِ ۚ
রমজান মাস, যে মাসে বিশ্বমানবের জন্য পথ প্রদর্শন এবং সু-পথের উজ্জ্বল নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে (সূরা বাকারা-১৮৫)।
এ মাসে একটা নফল ইবাদত করলে ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। আমরা জানি, প্রতিটি নেক আমলের বিনিময়ে দশ থেকে সাতশ গুণ, বরং তার চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায় (সহিহ বুখারী-৬৪৯১)। রমজানে এর পরিমাণ আল্লাহ আরো বাড়িয়ে দেন। এ মাসে সিয়াম (রোযা) পালন করা আল্লাহ ফরজ করেছেন। আল্লাহ কুরআনে বলেন,
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ ﴿۱۸۳﴾ۙ
হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমাদের পূর্ববতী লোকদের ন্যায় তোমাদের উপরও সিয়ামকে অপরিহার্য কর্তব্য রূপে নির্ধারণ করা হল যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো (সূরা বাকারা-১৮৩)।
সিয়াম পালন করার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দিবেন (সহিহ বুখারী-১৮৯৪)। এমন একটি বরকতপূর্ণ মাস আমাদের সামনে প্রতিবছরই আসে যে মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়। কিন্তু এ মাসে আমরা শুধু পানাহার বর্জন এবং কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মাধ্যমেই কাটিয়ে দেই। এ মাসের মূল উদ্দেশ্য- তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন, এ থেকে আমরা বরাবরের মতোই দূরে সরে যাই। অন্য সময়ের মতো ফ্রি-মিক্সিং, অশ্লীলতা, প্রতারণার মতো গুণাহে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে জড়াচ্ছি। দিনের বেলায়ও অনেক হোটেল, রেস্তোরাঁয় পর্দা লাগিয়ে খানাপিনা চলে। আর রমজান মাস আসলেই যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি হওয়া একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে অন্যান্য মুসলিমপ্রধান দেশে রমজান আসলে জিনিসপত্রের দাম কমে সেখানে আমাদের দেশে অতিরিক্ত শুল্ক বাড়িয়ে সেটার দাম বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। যেন এ মাস পুরোটা ব্যবসায় লাভবান হওয়ার মৌসুম। রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম, যে রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে (সূরা ক্বদর-১-৩)। রমজানের শেষ দশকে এ রাত অন্বেষণ করতে বলা হয়েছে, সেখানে আমরা কেনাকাটা আর আমোদপ্রমোদে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আবার, অনেকেই শুধু ২৭-এর রাতকেই লাইলাতুল ক্বদর হিসেবে উদযাপন করি, যা নিতান্তই ভুল। এ রাতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাতকে আমরা যারা অবহেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি, তাদের মতো হতভাগ্য আর কেউ নেই। রমজান আমাদের মধ্য থেকে প্রতিবছরই এভাবে চলে যায় কিন্তু আমরা এর যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে বলেন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে রমজান পেল অথচ নিজের গুণাহ মাফ করাতে পারলো না (বায়হাকি-১৫৭২)। তাই আসুন, আমরা এই বরকতপূর্ণ (রমজান) মাস কাজে লাগাই। আমলের বসন্ত হয়ে উঠুক এই মাস।
লেখক: শিক্ষার্থী,আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
প্রিয় পাঠক!
ফেব্রুয়ারী মাস এলেই আমরা ফিরে তাকাই আমাদের জাতিসত্তার সাথে মিশে থাকা সংগ্রামের অধ্যায়ে। ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। সামনে আসছে জাতীয় নির্বাচন, স্বাভাবিকভাবে তারুণ্যের জন্য এবারের নির্বাচন হবে ভাগ্যবদল ও পরিবর্তনের ট্রাম্পকার্ড। দেশের বিদ্যমান কাঠামো পাল্টে দিতে পারে তারুণ্যের চিন্তায়।
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে নতুন এক সন্ধিক্ষণ আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। রাষ্ট্র মেরামতের জন্য আমরা কতটুকু উদার তার কিছুটা বিপ্লব পরবর্তী সময়ে চোখে পড়েছে। এবার নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি কাদেরকে ক্ষমতার মসনদে বসাবে তা দেখার বিষয়। আশা রাখবো, সঠিক নেতৃত্বই আগামীতে আমাদের দেশ পরিচালনা করবে। বেঠিক কোন নেতৃত্ব এলে দেশ যেমন গোল্লায় যাবে, তেমনি স্বাধীন সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়ে পুরো জাতি ঘনকালো অমানিশার মধ্যে নিমজ্জিত হবে।
এই ফেব্রুয়ারী মাস যেভাবে আমাদের জন্য ভাষার মাস হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ, সেভাবে আরেক বেদনাবিধুর অধ্যায়! ২০০৯ সালে পিলখানা ট্র্যাজেডির মাধ্যমে আমরা হারিয়েছিলাম দেশপ্রেমিক সামরিক কর্মকর্তাদের। বিদ্রোহের নামে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর ১৭ বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো কেন এই হত্যাকাণ্ড কি কেবল একটি ‘বিদ্রোহ’, নাকি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? এই প্রশ্নের জবাব সঠিকভাবে তুলে ধরেনি তা ভাবার বিষয়।
এখন আমাদের সামনে দেখার পালা, আগামী দিনে যারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসবে তারা সঠিক তদন্ত ও বিচার করে এর সত্যতা কতটুকু উন্মোচন করে।
আমাদের জন্য আফসোস, বীর বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকান্ডের বিচার এখনো দেখতে পারিনি।এ ঘটনা আমাদের জন্য যতটা দুঃখের সেই সাথে রাষ্ট্রীয় কাঠামো কতটা ভঙ্গুর সেটিও মনে করিয়ে দেয়। নাগরিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস এগুলো এখন হাসির খোরাকে পরিণত হচ্ছে। বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদী যে ইনসাফের বার্তা আমাদের মাঝে জ্বালিয়ে গিয়েছেন তা সত্যিই আলোকবর্তিকা হয়ে থাকুক, সেই প্রত্যাশা করছি।
আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমাদান। রমাদান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আত্ম গঠনে মনোযোগী হবো। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মহা সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমাজকে বদলে দেওয়ার শপথ করবো।
সময় এবং সুযোগ এসেছে পরিবর্তনের। তাই সিদ্ধান্ত নিতে ভুল না করে দেশে চাবি পরিবর্তনের দায়িত্ব আমানতদার, ইনসাফ ও ন্যায়ের বার্তাবাহীদের উপর ন্যস্ত করতে হবে।
প্রিয় লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী!
দেখা হবে আরেক বাংলাদেশে, যেখানে নব ইশতেহারের আলোকে দেশ সাজবে!
ক্যাম্পাস মিরর ডেস্ক
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি—ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত বর্বর হত্যাযজ্ঞ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর একটি। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন মানুষ নির্মমভাবে নিহত হন। বিদ্রোহের নামে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর ১৭ বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো কেন এই হত্যাকাণ্ড কি কেবল একটি ‘বিদ্রোহ’, নাকি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? এই প্রশ্নের জবাব সঠিকভাবে তুলে ধরেনি তা ভাবার বিষয়।
এখন আমাদের সামনে দেখার পালা, আগামী দিনে যারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসবে তারা সঠিক তদন্ত ও বিচার করে এর সত্যতা কতটুকু উন্মোচন করে। তবে আশার আলো হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তদন্ত কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেটি সামনের দিনে সত্যকে উন্মোচিত করতে কাজ দিবে।
তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে তৎকালীন সময়ে ঘটনার সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের নাম উঠে এসেছে।
নির্দেশদাতা, গোপন সংশ্লিষ্টতা, পরিকল্পনা সহ নানান অভিযোগে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ১৭ জন রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন:
শেখ হাসিনা(পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সভাপতি),ফজলে নূর তাপস,শেখ সেলিম,জাহাঙ্গীর কবির নানক,মির্জা আজম,কামরুল ইসলাম,সাহারা খাতুন,ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল,মাহবুব আরা গিনি,আসাদুজ্জামান নূর,তানজীম আহমদ সোহেল তাজ,মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক,শাহীন সিদ্দিক,কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান,মেহের আফরোজ চুমকি,লেদার লিটন,মেজর (অব.), খন্দকার আব্দুল হাফিজ।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয় এবং কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির উপস্থিতির কথাও উঠে আসে। বিদ্রোহের সময় পিলখানায় হিন্দি ও ভিন্ন ভাষায় কথোপকথন শোনার দাবি করেছেন একাধিক সাক্ষী। পাশাপাশি, ওই সময়ে শতাধিক ভারতীয় পাসপোর্টধারীর আগমন–বহির্গমন সংক্রান্ত অসংগতি পাওয়া গেছে। এসব তথ্যকে ভারতের সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি আরও গভীর তদন্তের সুপারিশ করেছে কমিশন।
সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ৩০ কর্মকর্তার নাম
কমিশন সূত্র বলেছে, তদন্তে সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ৩০ জনের বেশি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বহীনতা, অবহেলা ও সন্দেহজনক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দীন আহম্মেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল এস এম জিয়াউর রহমানসহ ১২ জন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন লে. জেনারেল (অব.) সিনা ইবনে জামালী, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, লে. জেনারেল (অব.) মো. মইনুল ইসলাম, লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল হাকিম আজিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামসুল আলম চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইমামুল হুদা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহমুদ হোসেন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহবুব সারোয়ার।
কমিশনের তদন্ত সূত্র বলছে, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইনের সিদ্ধান্ত এবং আচরণ হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ দেয়। বিডিআরের ডিজি শাকিল পিলখানার ভয়াবহ পরিস্থিতি জানানোর পরও তিনি সেনা পাঠানোর স্পষ্ট নির্দেশ দেননি এবং যুক্তি দেন, অভিযান চালালে ভারতীয় বাহিনী দেশে প্রবেশ করতে পারে। জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ সামরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ঘটনাস্থলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে যান।
এর বাইরে ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, লে. জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ, মেজর জেনারেল (অব.) ইমরুল কায়েস ও মেজর জেনারেল (অব.) সুলতানুজ্জামান সালেহ উদ্দীন; এনএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মুনিরুল ইসলাম ও মেজর জেনারেল (অব.) টি এম জোবায়ের, র্যাবের চার কর্মকর্তা, বিডিআরের তিন কর্মকর্তা এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
র্যাবের সাবেক ওই কর্মকর্তারা হলেন তৎকালীন ডিজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মেজর জেনারেল (অব.) রেজানুর রহমান খান, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আজিম আহমেদ (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ডাইরেক্টর ইন্টেলিজেন্স)। কমিশন বলেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও তাঁরা র্যাবকে নিষ্ক্রিয় রেখেছেন।
বিডিআরের অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা হলেন কর্নেল (অব.) সাইদুল কবির, লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ এবং মেজর (অব.) গোলাম মাহবুবুল আলম চৌধুরী। দায়িত্বে অবহেলা, সত্য গোপন করা এবং অপরাধীদের পালানোর সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠা পুলিশের কর্মকর্তারা হলেন সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার নাঈম আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) ও বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম, সাবেক অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ ও তাঁর তদন্ত দল। তৎকালীন আইজিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শুধু নিজের মেয়ে ও কিছু পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
মিডিয়া ও রাষ্ট্রীয় নীরবতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় কিছু সংবাদমাধ্যম যাচাই ছাড়াই উত্তেজনাকর তথ্য প্রচার করে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তোলে। পাশাপাশি, রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক নীরবতা বজায় রাখে, যা সত্য উদ্ঘাটনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পিলখানা ট্র্যাজেডির সত্য উন্মোচিত না হওয়া রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করে। সেই সাথে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম কি শুধু এটাকে নিছক ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখবে নাকি এর আসল কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা দেখবে সে পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? আর অপেক্ষার প্রহর কখন শেষ হবে তার হিসাব গুনতে থাকবে!
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিব উদ্দিন রাকিবের নেতৃত্বে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কর্মসূচি
পবিত্র রমজান উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করার পর ইসলামী ছাত্রশিবির–এর কার্যক্রম ঘিরে রাজনৈতিক সভা–সেমিনারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রশাসন। কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদের দপ্তর থেকে জারি করা জরুরি নোটিশে একাডেমিক কার্যক্রম ছাড়া সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইফতার ঘোষণার পরই জরুরি নোটিশ
ছাত্রশিবিরের কর্মসূচি শুরুর আগের দিন হঠাৎ এই নোটিশ দিয়েছেন অধ্যক্ষ
ছাত্রশিবির সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঢামেক ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীদের জন্য ইফতার ও মেহেদি উৎসব এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের জন্য ইফতার মাহফিল আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
তবে আলোকসজ্জার প্রস্তুতি শুরু হলে কলেজ প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়। এর আগের দিন, ২৩ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষের দপ্তর থেকে দেওয়া এক জরুরি নোটিশে জানানো হয়, কলেজের ভবন ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক, পেশাজীবী বা বহিরাগত সংগঠনের সভা, সেমিনার বা আলোচনা আয়োজন করা যাবে না।
নিজে ছাত্রদলের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বর্তমান অধ্যক্ষ
নোটিশে বলা হয়, এ নির্দেশনা কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য বাধ্যতামূলক।
আগেই ছিল ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে ঢামেক ক্যাম্পাস, শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাস ও ডা. আলীম চৌধুরী ছাত্রীবাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে বা গোপনে ছাত্ররাজনীতি করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ: একপক্ষের জন্য সুযোগ, অন্যপক্ষের জন্য বাধা
ছাত্রশিবিরের ‘মেডিকেল জোন’ শাখার সেক্রেটারি ডা. জুলফিকার আলী অভিযোগ করেন, তাদের কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে, কিন্তু প্রশাসন সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তার ভাষ্য, “আমাদের ক্যাম্পাসে কোনো কমিটি নেই এবং আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে রাজনৈতিক কার্যক্রম করি। অথচ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠনমূলক একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ–এর প্রভাবেই প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় উদযাপন অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ নিজে উপস্থিত ছিলেন, তার পাশে বসে আছেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. আসাদুজ্জামান
অধ্যক্ষের বক্তব্য: প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা
অভিযোগের বিষয়ে ঢামেকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে এবং এ নীতির বাইরে কোনো কার্যক্রম অনুমোদিত নয়।
তিনি বলেন, “কিছু শিক্ষার্থী মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে। আমরা তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।”
ক্যাম্পাসে ছাত্রদল বা অন্য সংগঠনের দৃশ্যমান কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রয়োজন।
কলেজ ক্যাম্পাসে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ছাত্রদলের মিছিল
বিতর্কের কেন্দ্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ এবং প্রশাসনের অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢামেক ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রম দৃশ্যমান, যা প্রশাসনের নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিরীহ ছাত্র, সাংবাদিক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর পুলিশের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনাকে পুরনো দমন-পীড়নের সংস্কৃতির প্রতিধ্বনি বলে মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “অতিউৎসাহী পুলিশের হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি পুরনো দমন-পীড়নের সংস্কৃতিরই প্রতিধ্বনি।”
ফেসবুক পোস্টে তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে একটি কঠিন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই সময়ে কিছু অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করেছেন, যার ফলে জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে এবং বাহিনীর নৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “গতকাল নিরীহ ছাত্র, সাংবাদিক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর অতিউৎসাহী পুলিশের হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া, দমন করা নয়। যারা পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করবে বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন।
পুলিশ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পুলিশকে জনবান্ধব হতে হবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “আইনের শাসন মানে শক্তির প্রদর্শন নয়, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই।”
বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির–এর ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আজিজুর রহমান আজাদ। মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম এবং প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আমিরুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে। সাংস্কৃতিক সম্পাদক হয়েছেন হাফেজ আবু মুসা এবং প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ।
এ ছাড়া ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে রেজাউল করিম শাকিল, ছাত্রঅধিকার সম্পাদক হিসেবে মহিবুর রহমান মুহিব এবং সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র–এ অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। পরে সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেলের নাম ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছেন সিবগাতুল্লাহ।
নতুন এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির মাধ্যমে সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ২ উইকেটের নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শেষ ওভারে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড, যেখানে জয়ের নায়ক ছিলেন ব্যাটার হ্যারি ব্রুক।
ম্যাচের শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল মাত্র ৩ রান। পাকিস্তানের বোলার সালমান মির্জার করা প্রথম বলেই চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন জফরা আর্চার।
এর আগে ইংল্যান্ডের জয়ের ভিত গড়ে দেন ব্রুক। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেটে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। মাত্র ৫০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ইংলিশ ব্যাটার, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। তিনি প্রথম ৫০ রান করেন ২৮ বলে এবং পরের ফিফটি আসে মাত্র ২২ বলে। ব্রুক আউট হওয়ার সময় ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৮ বলে ১০ রান।
ব্রুক সেঞ্চুরি করার পরের বলেই পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি তাকে বোল্ড করেন। এরপর দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা চাপ তৈরি করেন মোহাম্মদ নেওয়াজ। তবে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিং করা পাকিস্তান ক্রিকেট দল নির্ধারিত ওভারে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে ফারহান একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি করেন, যা পাকিস্তানকে প্রতিযোগিতামূলক স্কোর এনে দেয়।
এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে এই পরাজয়ে পাকিস্তান এখনো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে না পড়লেও তাদের সেমিফাইনালের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন জনগণের কাছে অধিকতর বোধগম্য হয়ে উঠেছে।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানা-এ তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন শহীদ হন। দিবসটি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছিলেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্বসহকারে পালন করা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে “শহীদ সেনা দিবস” হিসেবে পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে তিনি শহীদদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে তিনি দাবি করেন, “এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল- নাগরিক হিসেবে বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর নানা ধরনের মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীকে একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
“দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিপরীতে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াব-এই হোক শহীদ সেনা দিবসের প্রত্যয়,”-বলেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় জীবনে গভীর শোক ও বেদনার দিন হিসেবে ২৫ ফেব্রুয়ারি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল পিলখানার সেই রক্তাক্ত অধ্যায়, যা বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।