নাজিয়া আফরোজঃ ‘ক্রাশ’ শব্দটি ইংরেজি শব্দ ‘Crush’-এর রূপান্তরিত বাংলা শব্দ। শব্দটির বাংলা হলো ভেঙে যাওয়া বা চুরমার হয়ে যাওয়া। সাধারণত কোনো কিছু ভেঙে যাওয়া, নষ্ট হওয়া বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
বর্তমান যুগে এটি আমাদের কাছে বহুল পরিচিত একটি শব্দ।
কাউকে প্রথম দেখে ভালো লাগা কিংবা তার প্রতি একধরণের আকর্ষণবোধ করাকেই আমরা ক্রাশ বলে থাকি। যার ওপর এই ক্রাশ অনুভব করি তাকে নিয়ে ভাবতেই আমাদের ভালো লাগে।
শুধু তা-ই নয় এই ভালো লাগা কিংবা ক্রাশকে নিয়ে যে শুধু নিজেই ভাবছি তা নয়। বরং বন্ধুমহলে কিংবা পরিচিতজনদের কাছেও বলে বেড়াই এই ক্রাশ নিয়ে। কখনও ক্রাশের ভালো দিকগুলো আলোচনা করা হয় আবার কখনও বা তাকে বিশ্রিভাবে উপস্থাপন করা হয় বন্ধুমহলে এবং এই ক্রাশকে নিয়ে আলোচনা করেই সবাই উপভোগ করেন।
কিন্তু কখনো কখনো এমনও হয় যে, আপনি যাকে ক্রাশ ভেবে হাবুডুবু খাচ্ছেন আসলেই সে অতটা ক্রাশ খাওয়ার মতোও না। তাকে বাইরে থেকে দেখেই আপনি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে খোঁজ নিয়ে দেখলেন সে আদৌও ভালো মানুষ নয়।
যদি ক্রাশ খেতেই হয় তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন, না হয় শুধু মরীচিকার পিছনেই দৌড়াতে থাকবেন নাগাল পাবেন না।
আবার এমনও হতে পারে যাকে আপনি ক্রাশ বলে উপস্থাপন করছেন, সে আপনার আচরণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে, তার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
তাহলে একবার ঠা-া মাথায় ভেবে দেখুন তো আপনি-ই কি তার পথ চলায় বাধা সৃষ্টি করতে দায়ী নই?
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বলা যায়-“চোখের যিনার আধুনিক নামই হচ্ছে ক্রাশ।”
আমরা যেটাকে ক্রাশ বলি নবীজী (সা:) তার নাম দিয়েছেন চোখের যিনা।

ক্রাশ শব্দটি ব্যবহার করে আপনি নিজেকে আধুনিক প্রমাণ করছেন?
মোটেই না বরং এই শব্দটি দ্বারা আপনি আপনার রুচিবোধ এবং নিচু মন-মানসিকতারই প্রকাশ করছেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিউত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন