“দিরিলিস আরতুগ্রুল” রিভিউ | মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন (আরমান)

0
1223
“দিরিলিস আরতুগ্রুল” রিভিউ | মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন (আরমান)
“দিরিলিস আরতুগ্রুল” রিভিউ

“দিরিলিস আরতুগ্রুল”কে বলা হয় সাইলেন্ট অ্যাটোম বোম এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা সিরিজ। তুর্কিদের তৈরি বিশ্ব কাপানো কয়েকটি সিরিয়ালের মধ্যে অন্যতম এটি।

সিরিজটি পরিচিত যে নামে:
তুর্কি: Diriliş Ertuğrul
বাংলায়: দিরিলিস আরতুগ্রুল
ইংলিশঃ Dirilis Ertugrul
ইউরোপে যে নামে প্রচার হয়েছে:
Resurrection Ertugrul ( পুনরুত্থান আরতুগ্রুল)

ক্যাটাগরি: ইতিহাস, যুদ্ধ, ড্রামা, জীবনী
রানিং টাইম প্রতি ভলিউম: ১১০ মিনিট থেকে ১৪০ মিনিট
ভাষা: মূল তুর্কি
অনুবাদ: ইংরেজী সাবটাইটেল, উর্দু ডাবিং, বাংলা ডাবিং, বাংলা সাবটাইটেল সহ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় ডাবিং ও সাবটাইটেল হয়েছে।

নেটফ্লিক্স, ইউটিউব ও টরেন্ট সাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন ইংরেজী সাবটাইটেল ছাড়া বা সহ।
তাছাড়া ফেসবুক থেকেও ডাউনলোড করা যায়। ফেসবুক অ্যাপসে ঢুকে দিরিলিসের প্রথম ভলিউমে ঢুকলেন, তারপর লিংকটি কপি করে বিটম্যাট, স্নাপটিউব, টিউবমেট, ভিডিওটার যেকোন একটি অ্যাপসে গিয়ে পেস্ট করলেই আপনাকে নিয়ে যাবে ডাউনলোডে, তারপর আপনার পছন্দের রেজুলেশন ৭২০/৪৮০/৩৬০ প্রিন্টে নামাতে পারবেন দিরিলিস আরতুগ্রুল।

মোট সিজন: ৫টি
১ম সিজন: ২৬ ভলিউম (২০১৫)
২য় সিজন: ৩৫ ভলিউম (২০১৬)
৩য় সিজন: ৩০ ভলিউম (২০১৭)
৪র্থ সিজন: ৩০ ভলিউম (২০১৮)
৫ম সিজন: ২৯ ভলিউম (২০১৯)

ওগউন রেটিং: ৭:৭/১০ (২১,০০০)
আমার রেটিং: ৯:৮/১০
শুটিং স্পট: রিভা গ্রাম, ইস্তাম্বুল, তুর্কি
অ্যাওয়ার্ড: ৯টি এবং মনোয়ন ৩৩টি;
রেকর্ড: ২০১৪ -২০১৯ পর্যন্ত তুর্কি টিভি সিরিজের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন এবং IMDb(ইন্টারন্যাশনাল মুভি ডাটাবেজ)-এ তুর্কি সিরিজে প্রথমে হয়েছে।

গিনেস বুক অব রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে দিরিলিস:
এবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে উসমানীয় সাম্রাজ্যের গৌরবময় উত্থানের সত্য কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ “দিরিলিস আরতুগ্রুল”।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভিতে সম্প্রচারের জন্য উর্দু ভাষায় প্রথম রমযান থেকে প্রতিদিন এক পর্ব করে ডাবিং প্রচারিত হয়েছে। সারাবিশ্বের অন্ততপক্ষে ৩শ’ কোটি দর্শক (সারা বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক) আলোচিত এই সিরিজটি দেখেছেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমগুলো।

যাদের প্রযোজনায় সম্পন্ন হয়েছে:
পরিচালক: মেতেন গুনেয়
প্রযোজক ও লেখক: মেহমেত বোজদেগ
ফিল্ম স্পন্সর: তেকতেন ফিল্ম
সিরিজটি তৈরীতে উদ্যোগ নেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান।
সম্প্রচার: ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রথম ভলিউম প্রচার হয় এবং ৬ জুন ২০১৯ সালে শেষ ভলিউম (১৫০) প্রচারের মাধ্যমে শেষ হয় সিরিজটি।
যে টিভিতে প্রচারিত হয়: TRT ১ টিভি ( তুরস্ক রেডিও এন্ড টেলিভিশন সরকারী টিভি)

আন্তর্জাতিক সম্প্রচার:
আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সোমালিয়া, ব্রাজিল, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, আজার বাইজান, বসনিয়া, চিলি, ইন্দোনিশিয়া, জর্দান, কাজাখস্তান,দক্ষিণ আফ্রিকা, উজবেকিস্তান, তিউনিশিয়া, উত্তর সাইপ্রাস, কাতার, আরব দেশগুলোসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টির ও বেশি দেশে সম্প্রচার হয়।

প্লট:
– ১২২৫ সালে মধ্য এশিয়া থেকে চেঙ্গিস খানের মঙ্গলবাহিনীর তাড়া খেয়ে আনাতুলিয়াতে (বর্তমান তুর্কি) যাযাবর এক গোষ্ঠী তাবু গেড়েছে, যাদের গোষ্ঠীর নাম কায়ী গোষ্ঠী। আনাতুলিয়া তখন সেলজুক রাজ্যের অধীনে, সেলজুক রাজ্যের সুলতান তখন আলাউদ্দিন কায়কোবাদ ।
কায়ীদের তাবুর সংখ্যা প্রায় ২০০০ যাতে লোকজন রয়েছে প্রায় ৬০০০ মত। কায়ী গোষ্ঠীর প্রধান নেতা ছিলেন সুলেমান শাহ, যার রয়েছে চার ছেলে।

সুলেমান শাহ বিয়ে করেছেন দুটি, প্রথম স্ত্রী মারা যাবার পরে হাইমে হাতুন কে বিয়ে করেন, প্রথম স্ত্রীর ঘরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়, তার নাম গুন্দাদু। হাইমে হাতুনের ঘরে জন্ম নেন তিন সন্তান, সুনগুর তেকিন, আরতুগ্রুল গাজী ও দুন্দার বে। এদিক দিয়ে আরতুগ্রুল হলেন তৃতীয় সন্তান।
কায়ী গোষ্ঠীর সাহসী কামার আগুনের কুন্ডলী থেকে একটি লোহাকে পিডানোর জন্য তুলছেন, যার সাথে রয়েছে কায়ী গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ যুবক।
সাহসী কামার লোহাকে তুলেই হাতুড়ি দিয়ে পিডানো শুরু করছেন আর বলছেন “হাইদির আল্লাহ্, হাকতির আল্লাহ্”।

তার সাথে সাহসী যুবকটিও হাতুড়ি পিডাচ্ছে আর “হাইদির আল্লাহ্, হাকতির আল্লাহ্” শ্লোগান তুলছে।
এ দৃশ্যপট দেখানোর মাধ্যেমে সিরিজটি শুরু হয়।
সাহসী কামারটি ছিলেন দেলিদেমির ওস্তাদ, আর সাহসী যুবকটি হলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের স্বপ্নদ্রষ্টা আরতুগ্রুল গাজী। আরতুগ্রুল গাজীর তিন ঘনিষ্ঠ সহচর- তুরগুত, বামসী ও দোয়ান।
এ তিনজনকে নিয়ে তিনি রওনা হলেন শিকারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। আল্লাহু আকবার ধ্বনী দিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে চলছেন শিকারের খোঁজে।

শিকার খুঁজতে গিয়ে অমানুষ শিকার করে ফেলেছেন আজ! নাইট টেম্পলার তিতুশের ভাই বিষুল তিনজন মুসলিমকে বন্দী করে নিয়ে যাচ্ছে মোনাফেক খ্যাত সেলজুক আমির কারাতোয়াগারের কাছে, কারণ বন্দীরা যে খুবই মূল্যবান। বন্দীরা হলো সেলজুক সাম্রাজ্যের সুলতান আলাউদ্দিন কায়কোবাদের বড় ভাই শাহজাদা নোমান, তার ছেলে ইঘিত ও তার মেয়ে হালিমা সুলতানা।

বন্দীদের নিয়ে যাচ্ছে তিতুশের ভাই বিষুল, পথিমধ্যে ঘোড়া ও মানুষের জন্য পানি পানের বিরতি চলছে। এ সুযোগে শাহজাদা নোমান বন্দী খাঁচা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু বিধিবাম অল্প একটু যাওয়ার পর তারা ধরা পড়ে যান নাইটদের হাতে, ব্যস এখন তাদের উপর চলছে নির্যাতন।
এমন সময় এমন বিপদে কে বাঁচাবে?

নোমান চিৎকার করে বললেন ইয়া আল্লাহ্ সাহায্য করো।
এ কথা বলার পরপরই দেখা যায় শিকার ছেড়ে চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে চলে এসেছেন আরতুগ্রুল, এসব নির্যাতন দেখে সহ্য করতে না পেরে জালিমদের বিরুদ্ধে একাই লড়াই শুরু করে দিলেন, তারপর তার তিন সহচরও ঘটনা স্থলে আসলেন আর নাইটদের কচুকাটা করে হত্যা করে শাহজাদা নোমানদের রক্ষা করলেন।
এটা প্রথম ভলিউমের প্রথম ফাইটিং দৃশ্য, আর এ ফাইটিং দৃশ্যতে যেন মধু লাগানো রয়েছে। কারণ এদৃশ্য দেখে লক্ষ লক্ষ মানুষ দিরিলিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেছে।
যুদ্ধ যে যেনতেন বা অকল্পনীয় নয়, দিরিলিসে গ্রাফিক্স বা উন্নত মানের ইডিট বলতে নেই, যতই দেখবেন মনে হবে সব বাস্তবিক।

“দিরিলিস আরতুগ্রুল” রিভিউ | মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন (আরমান)
দিরিলিস আরতুগ্রুল

আরতুগ্রুল ছোট ছুরি ও লম্বা তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করেন, তিনি আবার বাহাতি তুরগুত লড়াই করেন কুঠার দিয়ে। দোয়ান লড়াই করেন ঢাল ও তরবারী দিয়ে, আর বামসী! তার তো সব সময় দুইটি তরবারী ছাড়া চলেই না।
সিজন-১ ঘরের বিশ্বাস ঘাতক এবং নাইট টেম্পলারদের সাথে লড়াই করতে করতে শেষ হয় এবং পরিশেষে নাইট টেম্পলারদের দূর্গ আমানোস পর্বত জয় করেন আরতুগ্রুল গাজী।
সিজন-২ তে দেখতে পাবেন পৃথিবীর নিকৃষ্টতম মঙ্গল বাহিনীকে, যারা চেয়েছিল পুরো পৃথিবী দখল করতে। মঙ্গল বাহিনীর প্রধান চেঙ্গিস খান ভারত, চীন এমনকি এশিয়া দখল করে আফ্রিকা দিয়ে ঢুকে ইউরোপ দখল করতে পারলে পুরো পৃথিবী দখল করে ফেলত। কিন্তু তাদের এ জয়রথকে থামিয়ে দেন মামলুক সুলতান সাইফ উদ্দিন কুতুজ ও সেনাপ্রধান রুকুন উদ্দিন বাইবার্স।

১২৬০ সালে আইনজালুত প্রান্তরে মঙ্গলদের সমস্ত অহংকারকে ধুলিসাৎ করে ইসলামকে বিজয়ী করেন সুলতান বাহিনী। মঙ্গলরা বাস্তবে খুবই নিকৃষ্ট এবং ভয়ংকর ছিল। তাদের দয়ামায়া বলতে কিছু নেই, শিশু ছেলেরা যখন তিন বছরের তখন থেকেই শিশু ছেলেদেরকে পরিপূর্ণ বেগে তীর ও ঘোড়া চালানো শিখতে হবে, যদি কোন শিশু এসব না পারে, তাহলে মঙ্গল সমাজে সে খুবই দুর্বল ও অবহেলিত হয়ে বেঁচে থাকে।
সিজন-২ এর শেষদিকে বাইজেইন্টাইন সাম্রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন আরতুগ্রুল গাজী, যেখানে রয়েছে রাসূল (সা:)-এর ভবিষ্যদ্বাণী করা কন্সট্যান্টিনোপোল দূর্গ যা পৃথিবীর সমস্ত দূর্গ থেকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী।
সিজন-৩ শুরু হয় সিজন-২ এর ছয় বছর পর। সেখানে নাইট টেম্পলার, খ্রিষ্টান দূর্গ এবং পাশের বসতি চাভদার বিশ্বাসঘাতকদের সাথে লড়েন, পরিশেষে নাইট টেম্পলারদের দখলে থাকা বানিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হানলি বাজার দখল করেন।

সিজন-৪ এ শুরু হয় সুলতান আলাউদ্দিন কায়কোবাদের চ্যাপ্টার, সাথে তো নিজেদের মোনাফেক বিশ্বাসঘাতকরা রয়েছেই, তাদের সাথে লড়াই এবং খ্রিস্টান বাহিনীর সাথে লড়াই চলে, সিজন-৪ এ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কারাযাইসার দূর্গ দখল করা।
সিজন-৪ এর শেষদিকে সুগুতের দিকে রওয়ানা হন।
সিজন-৫ শুরু হয় সিজন-৪ এর দশ বছর পর। সিজন-৫ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিজন কারণ, এতে একদিকে রয়েছে নাইট ও খ্রিষ্টানরা আরেকদিকে মঙ্গল বাহিনী। আর অপরদিকে নিজেদের মধ্যে মোনাফেক, বিশ্বাসঘাতকদের দল তো আছেই। মানে, চারদিকে বিপদ একটু পা পিছ্লেই শেষ।
গুরুত্বপূর্ণ সুগুত বাজার দখল এবং আরতুগ্রুল বে সীমান্তের গভর্নর হন এ সিজনে। সিজন-৫ এর মাধ্যমে শেষ হয় “দিরিলিস আরতুগ্রুল”।

দিরিলিস আরতুগ্রুলে কিছু বিশেষ ব্যক্তিদের উক্তি:
“মুসলমানদের এক ফোটা রক্তের জন্য আমরা পুরো পৃথিবী জ্বালিয়ে দেবো” —(গুন্দুজ)
“সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার হলে আমি সারা পৃথিবীকে বিরক্ত করবো” —(আরতুগ্রুল গাজী)
“যার স্বপ্ন নেই, তার কোন ভবিষ্যতও নেই” —(আরতুগ্রুল গাজী)
“তোমার খাবার যত বেশি ভাগাভাগি করে খাবে, এটা তত বেশি সুস্বাদু হবে। তোমার কষ্ট যত বেশি ভাগাভাগি করবে, এটা তত বেশি সহজ হবে” —(জান্দার বে)
“প্রকৃত মানুষরাই কেবল চোখে চোখ রেখে কথা বলে” —( আরতুগ্রুল গাজী)
“যে নিজেকে পানি দিয়ে ভেজায়, সে কাপড় বদলায়।
যে ঘাম দিয়ে ভেজায়, সে ভাগ্য বদলায়।
যে রক্ত দিয়ে ভেজায়, সে ইতিহাস বদলায়।” —( শায়খ ইবনুল আরাবী)
“শাহাদাত আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়” —(শায়খ ইবনুল আরাবী)
“কোন মুমিন ব্যক্তি জুলুমের বিরুদ্ধে যতক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাবে
ততক্ষণ পর্যন্ত সে একজন শ্রেষ্ঠ মুসলিম।” —(শায়খ ইবনুল আরাবী)
“কেউ যখন সত্য পথের পথিক হয়ে যায়, তখন মহান আল্লাহ স্বয়ং তার সাহায্যকারী হয়ে যান।” —(শায়খ ইবনুল আরাবী)

সিরিজটির যথাযথ চিত্রায়নের জন্য হলিউডের এক্সপেন্ডিবল্স ২, রন ইন, কোনান দ্য ব্যারব্যারিয়ানের মত চলচ্চিত্রের প্রোডাকশন টিমকে নিয়োগ করা হয়, যারা অভিনেতা, ঘোড়া ও অন্যান্য দৃশ্যের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
এই সিরিজটির প্রয়োজনে চিড়িয়াাখানার মত করে ছোট আকারের একটি বিশেষ এলাকা প্রস্তুত করা হয়, যেখানে অনুষ্ঠানের দৃশ্যায়নের বিভিন্ন পশুপাখি রাখা ছিল, যার মধ্যে শুধু ঘোড়াই ছিল ২৫টি! আর পশুপাখিগুলোর দেখভাল করার জন্য ছিল ২৪ ঘণ্টা নিয়োগকৃত পশুচিকিৎসক।
প্রতি পর্বে ৭ লক্ষ আমেরিকান ডলার বাজেট সম্পন্ন এই অনুষ্ঠান শিল্প নির্দেশনার ক্ষেত্রে টেলিভিশনের ইতিহাসে একটি অন্যতম মাইলফলক।

শেষকথা:
দ্বাদশ শতকের শেষদিকে প্রতিষ্ঠিত সবশেষ ইসলামি খেলাফত উসমানী সাম্রাজ্যের উত্থান নিয়ে তৈরি এই সিরিজ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলামের ইতিহাস অবিকৃতভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে যত সিরিজ নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে দিরিলিস আরতুগ্রুল সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় ও অধিক সমাদৃত। মুসলমানদের বিজয়গাঁথা ইতিহাস, তাদের জাতিসত্ত্বার অসীম ত্যাগ কিছুটা উপলব্ধি করা যায় এটা দেখে। ছোট্ট মুসলিম গোষ্ঠীটি মহান রবের রহমত আর তাদের যোগ্যতা বলে সাত শ’ বছর তিনটি মহাদেশ শাসন করেছে, ইতিহাসের সাথে মিল রেখে করা সিরিজটিতে “ইতিহাসের উজ্জ্বল তারকা গাজী আরতুগ্রুল বে” র নেতৃত্বে তুর্কী মুসলিমদের যে উত্থান হয়েছিল তাই-ই চমৎকারভাবে দৃশ্যপাত করা হয়েছে দিরিলিস আরতুগ্রুলে। একইসঙ্গে তুর্কী মুসলিমদের আত্নপরিচয় এবং হারানো ইতিহাসের স্বরূপ সন্ধানও এতে করা হয়েছে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্ট;
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

প্রতিউত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন